ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:২৭ ঢাকা, শুক্রবার  ১৯শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করেই ছাড়ল টাইগাররা

১৫ বছরে পদার্পনকে স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা সিমেন্ট টেস্ট সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ১৮৬ রানে হারানোর মধ্য দিয়ে দলটিকে হোয়াট ওয়াশ করার গৌরব অর্জন করল মুশফিকুর বাহিনী। ফলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা।
২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট পরিবারে পা রেখেছিল যে দেশটি, তারাই দেখতে দেখতে পার করে ফেলেছে ১৪টি বছর। ইতোমধ্যে ৮৭টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। আজ ৮৮তম ম্যাচে জয়লাভ করেছে। আজকেরটি নিয়ে ৭ টেস্ট ম্যাচে জয় পেল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দলটি পৌছে গেল অনন্য এক রেকর্ডে। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ইংল্যান্ডই একমাত্র দল, যারা ১৫ বছরের মধ্যে ৩ বা ততোধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রতিপক্ষ দলকে হোয়াইট ওয়াশ করার স্বাদ পেয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ, যারা ১৫ বছরের মধ্যে ৩ বা ততোধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রতিপক্ষ দলকে হোয়াইট ওয়াশ করার স্বাদ পেল। কারন এশিয়া তো বটেই ইংল্যান্ড ছাড়া ক্রিকেট বিশ্বের আর কোন দল এর আগে এমন কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ফলে আজকের ম্যাচে জয়ের ফলে নতুন এক ইতিহাসে নিজেদের পৌছে দিল টাইগার বাহিনী।
আগের দিনেই স্বাগতিক বাংলাদেশ ৩১৯ রান করে ইনিংস ঘোষণা করলে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের টার্গেট দাঁড়ায় ৪৪৯ রান। শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষে পৌছতে পরেনি জিম্বাবুয়ে। ২৬২ রানেই হারিয়ে বসে সবকটি উইকেট। ফলে ১৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ।
আগের দিনের ১ উইকেটে ৭১ রানের পুঁজি দিয়ে আজ চতুর্থ দিনের মত ২য় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে সফরকারী দলের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা (৪৩) ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (২৬)। দলীয় ৯৭ ও ব্যক্তিগত ৩৮ রানে হ্যামিল্টন শুভগত হোমের বলে উইকেট রক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে জমা পড়েন। এরপর সিকান্দার রাজাকেও ফিরিয়ে দেন অনিয়মিত বোলার শুভগত হোম। তাইুজুলের হাতে জমা পড়ার আগে তিনি পৌছে যান ৬৫ রানে। আগের ইনিংসে ৫ উইকেট সংগ্রহকারী জুবায়ের জ্বলে ওঠেন এরপর। ফিরিয়ে দেন টেইলর (২৪) ও এলটন চিগুমবুরাকে (৫)।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর রেজিস চাকাবা ও ক্রেইগ আরভিন দলীয় ইনিংসকে মেরামতের চেস্টা করলেও সফল হননি। রেজিসকে আটকাতে না পারলেও আরভিনকে ঠিকই আটকে দেন বোলিংয়ে ফেরা মাহমুদুল্লাহ। এরপর চাকাবা এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অপর প্রান্ত দিয়ে তাউজুলের বলে মাতুম্বি (২), রুবেলের বলে পেনিয়াংগারা (২) এবং শফিউল এসে শেষ দুটি উইকেট শিংগি মাসাকাদজা ও নাতসাই এমসাংগুয়েকে বিনা রানে ফিরিয়ে দিয়ে দলীয় জয়কে ত্বরান্বিত করেন। চাকাবা শেষ পর্যন্ত ৮৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। স্বাগতিক দলের হয়ে দুটি করে উইকেট ভাগ করে নেন যথাক্রমে শফিউল, রুবেল, জুবায়ের ও শুভাগত। বাকী উইকেট দুটি ভাগ করেন তাইজুল ও মাহমুদুল্লাহ। স্বাগতিক দলের মোমিনুল হক ও সাকিব আল হাসান যথাক্রমে ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরার পুরস্কার লাভ করেন।

স্কোর কার্ড:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস ৫০৩ (ইমরুল ১৩০, তামিম ১০৯, সাকিব ৭১)
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস ৩৭৪ (এল্টন চিগুমবুরা ৮৮, সিকান্দার ৮২, হ্যামিল্টন ৮১)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস ৩১৯/৫ ডিক্লে: (মোমিনুল ১৩১*, তামিম ৬৫, মুশফিকুর ৪৬)
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস টার্গেট ৪৪৯ (আগের দিন ৭১/১)
সিকান্দার রাজা ক তাইজুল ব শুভাগত ৬৫ (৭৫)
ব্রায়ান চারি এলবিডাব্লিউ ব রুবেল হোসেন ০(৫)
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ক মুশফিকুর ব শুভাগত ৩৮(৯১)
ব্রেনডন টেইলর ক সাকিব ব জুবায়ের ২৪(৫৯)
রেজিস চাকাবা অপরাজিত ৮৯(১৮১)
এল্টন চিগুমবুরা ক ইমরুল ব জুবায়ের ৫(২১)
ক্রেইগ আরভিন এলবিডাব্লিউ ব মাহমুদুল্লাহ ১৬(৪১)
রিচমন্ড মুতুম্বামি এলবিডাব্লিউ ব তাইজুল ২(২১)
টিনাসে পেনিয়াংগারা এলবিডাব্লিউ ব রুবেল ২(২৪)
শিংগি মাসাকাদজা বোল্ড শফিউল ০(৬)
নাতসাই এমসাংগুয়ে এলবিডব্লিউ ব শফিউল ০ (২)
অতিরিক্ত (বাই-১৪, লেবা-৬, ও-১) ২১
মোট ( অল আউট, ৮৫ ওভার) ২৬২
উইকেট পতন: ১/৪ (চারি), ২/৯৭(হ্যামিল্টন), ৩/১১৬(সিকান্দার), ৪/১৬৫(টেইলর), ৫/১৭৯ (চিগুমবুরা), ৬/২২৮ (আরভিন), ৭/২৩৭ (মুতুম্বামি), ৮/২৬১ (পেনিয়াংগারা), ৯/২৬২ (শিংগি), ১০/২৬২ (এমসাংগুয়ে)।
বোলিং:
শফিউল ইসলাম ৯-১-১৭-২ (ও-১)
রুবেল হোসেন ৪-২-১৬-২
তাইজুল ইসলাম ২২-৪-৪৮-১
জুবায়ের হোসেন ১৯-৩-৫৬-২
সাকিব আল হাসান ১১-২-৩৫-০
শুভাগত হোম ১৬-১-৬৬-২
মাহমুদুল্লাহ ৪-১-৪-১

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন