ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৫৩ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

“জিএসপি স্থগিতে ইমেজ সংকট ছাড়া আর্থিক তেমন কোন ক্ষতি হয়নি”

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিতের ফলে বাংলাদেশের আর্থিক তেমন কোন ক্ষতি না হলেও ইমেজ সংকটে রয়েছে। জিএসপি ফিরে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৬ শর্ত পূরণ করা হয়েছে। এখন জিএসপি ফিরে পেতে আর কোন বাঁধা নেই।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর এর একটি প্রতিনিধি দল তৈরী পোশাক কারখানা পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফরে আসবে। এদেশের তৈরী পোশাক কারখানার অভূতপূর্ব উন্নতিতে তারা সন্তুষ্ট হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং এ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি-এর নির্বাহী পরিচালক জেমস্ এম মরিয়ার্টির নেতৃত্বে চার সদস্যের এ্যালায়েন্স ডেলিগেশনের সাথে মতবিনিময়শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ইউএসটিআর প্রতিনিধি দলের সফরশেষে বাংলাদেশের সিনিয়র বাণিজ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক করবেন। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের উপর থেকে জিএসপির স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করা হবে। মন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর কোন দেশকেই তৈরী পোশাকের উপর জিএসপি সুবিধা দেয় না। বাংলাদেশও জিএসপি স্থগিতের আগে তৈরী পোশাক শিল্পে সুবিধা পেতো না।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, একক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। জিএসপি স্থগিত হবার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিতের ফলে বাংলাদেশের আর্থিক তেমন কোন ক্ষতি না হলেও ইমেজ সংকটে রয়েছে। বাংলাদেশ আশা করছে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলোর বিল্ডিং সেফটি, ইলেট্রিক সেফটি, ফায়ার সেফটি এবং ওয়াকার্স সেফটির বর্তমান অবস্থা দেখলে জিএসপি স্থগিত রাখার কোন কারন থাকবে না। কিছুদিন আগে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ প্রায় ১০ জন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিভিন্ন তৈরী পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছেন। তারা এ শিল্পের উন্নয়ন, সেফটি, শ্রমিকদের অধিকার এবং কর্মবান্ধব পরিবেশ দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, এক সময় বাংলাদেশে অপরিকল্পিত ভাবে তৈরী পোশাক শিল্প গড়ে উঠলেও আজ বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প বিশ^মানের। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর গত আড়াই বছরে বাংলাদেশে আর কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। উন্নতবিশ্বে তৈরী পোশাক কারখার নিরাপত্তা, শ্রমিকদের অধিকার এবং কর্মবান্ধব পরিবেশের কোন অংশেই পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের জোট এ্যালায়েন্স এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ক্রেতাদের এ্যাকোর্ড বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলো ধরাবাহিক ভাবে পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইপিজেডে শ্রমিকদের শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিকদের কল্যাণে সেখানে ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন কার্যকর রয়েছে। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের বেতন ২১৯ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। বেতন, নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ নিয়ে শ্রমিকরা সন্তুষ্ট।
জেমস এম মরিয়ার্টি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তৈরী পোশাক কারখানার কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনেক অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।