ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৪৭ ঢাকা, বুধবার  ১৭ই জানুয়ারি ২০১৮ ইং

জিএসপি পেতে ১৬ শর্ত বাস্তবায়ন

সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর)-এর সাউথ এন্ড সেন্ট্রাল এশিয়া বিষয়ক সহকারী মাইকেল জে. ডিলানি’র নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজ বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রতিনিধি দলকে জানান, জিএসপি ফিরে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ‘১৬ শর্ত বিশিষ্ট এ্যাকশন প্ল্যান’ বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছে। কারখানার শ্রমিকগণ নিরাপদ এবং কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে এবং শ্রমিকরা উপযুক্ত বেতনও পাচ্ছেন।
গত পাঁচ বছরে শ্রমিকদের ২১৯ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের জন্য নতুন শ্রম আইন ও বিধি মালা তৈরি করা হয়েছে এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ইপিজেড-এ শ্রমিকরা ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন করে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন। একটি কারখানার ৩০ ভাগ ওয়ার্কার শ্রমিক ইউনিয়ন করার জন্য আবেদন করলে, তাদের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এ ভাবেই শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন আর কোন বিল্ডিং-এ শেয়ার কারখানা নেই-পাশাপাশি বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব সবকিছু করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের স্থগিতকৃত জিএসপি ফিরে পেতে আর কোন বাধা নেই বলে তোফায়েল আহমেদ মন্তব্য করেন।
ইউএসটিআর প্রতিনিধি দল নিরাপদ তৈরি পোশাক কারখানা, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ৩৬৮৫টি তৈরি পোশাক রপ্তানি’র কারখানার মধ্যে ইতোমধ্যেই এ্যাকর্ড, এ্যালায়েন্স এবং জাতীয় উদ্যোগে ৩৪০৭টি কারাখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৪টি কারখানা সুষ্ঠু পরিবেশ সমস্যার কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
কারখানাগুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সেফটি ডোর শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এখন নিরাপদ পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এখন আর এ্যাকর্ড, এ্যালায়েন্স-এর কারখানা পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই বলে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপর জিএসপি সুবিধা দিতো না। প্লাস্টিক, টোবাকো, সিরামিক, টেবিল ওয়্যারেরমত কিছু আইটেমের ওপর জিএসপি সুবিধা দিতো। যার পরিমাণ বছরে ২৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, এতে বাংলাদেশের তেমন আর্থিক ক্ষতি না হলেও ইমেজ সংকটের বিষয়টি চিন্তা করে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরল করেছি।’
বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন, পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন অতিরিক্ত সচিব মো. শওকত আলী ওয়ারেছি, অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক, ডব্লিউটিও) অমিতাভ চক্রবর্তী, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) জহির উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদফতর/দপ্তর/সংস্থা প্রধানগণের মধ্যে তাঁদের স্ব স্ব সংস্থার বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষরিত হয়।