ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৫৫ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ফটো

জামিন বাতিলের কয়েক ঘণ্টা পর জামিন পেলেন ফখরুল

রাজধানীর পল্টন থানার নাশকতার দুই মামলায় বিএনপির নতুন ঘোষিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর জামিন দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিকাল ৪টায় ঢাকার সিএমএম আদালত অসুস্থতার কারণে মির্জা ফখরুলের আবেদন পুনর্বিবেচনা করে জামিনের এ আদেশ দেন।

বর্তমানে মির্জা ফখরুল কোর্ট হাজতে রয়েছেন। জামিন আদেশ পুনর্বিবেচনা করায় আর তাকে কারাগারে যেতে হবে না। কোর্ট হাজত থেকেই সরাসরি মুক্তি পাবেন তিনি।

এর আগে সকালে সর্বোচ্চ আদালদের নির্দেশে  আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম নবীর আদালত তা নামঞ্জুর করে মির্জা ফখরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর ফের শুনানি করে তাকে জামিন দেন আদালত।

এদিকে বেলা সোয়া ১১টায় নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মির্জা ফখরুলকে দলের মহাচিব ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ওই সময় তিনি সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের অপেক্ষায় ছিলেন।

মির্জা ফখরুলের আইনজীবী জয়নুল আবেদিন মেজবাহ জানান, বেলা সোয়া ১২টায় সিএমএম কোর্টের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম নবীর আদালত জামিন শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মির্জা ফখরুলকে ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বিভাগ।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের সময় পল্টন থানার নাশকতার ওই তিন মামলায় মির্জা ফখরুলকে হাইকোর্ট অন্তর্র্বতীকালীন জামিন দিয়ে রুল জারি করেছিলেন।

এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন এবং জামিনের মেয়াদ শেষে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। এছাড়াও হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন।

হাইকোর্ট গত বছরের ২৪ নভেম্বর রুল নিষ্পত্তি করে ওই তিন মামলায় মির্জা ফখরুলকে তিন মাসের জামিন দেন।

ফখরুলের আইনজীবীদের দাবি, রুল নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণত মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন হয়। কিন্তু এখানে মাত্র তিন মাসের জামিন দেয়া হয়েছে। এ কারণে হাইকোর্টের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মির্জা ফখরুল গত ৭ জানুয়ারি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আবেদনটি ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ আবেদনের শুনানি চলাকালে সিলেটে বিচার বিভাগ নিয়ে মির্জা ফখরুল মন্তব্য করেছেন বলে নজরে এলে তার কাছে ব্যাখ্যা চান পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ।

২৯ ফেব্রুয়ারি ফখরুলের ব্যাখ্যাসহ জামিনের আবেদনের শুনানি শেষে ১৫ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে মির্জা ফখরুলকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।

মহাসচিব ঘোষণার দেড় ঘন্টার মধ্যে ২০১৫ সালে পল্টন থানায় দায়ের করা পুলিশের নাশকতার মামলায় ফের তাকে কারাগারে যেতে হলো। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জামিন পেলেন।