ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৩১ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

জাফর ইকবাল
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ফাইল ফটো

জাফর ইকবালের ওপর হামলা ছিল ‘সন্ত্রাসী’ : র‌্যাব-৯

প্রখ্যাত লেখক, শিক্ষাবিদ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনাকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এক ধরনের সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছে। তিনি বর্তমানে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ আজ বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত এ হামলা এক ধরনের সন্ত্রাসী হামলা এবং গ্রেফতারকৃত ফাইজুর রহমান একজন জঙ্গি। ফাইজুর নিজে এ হামলা করেছে, না কোন সংঘবদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর মদদে এটি করেছে, সে বিষয়ে আমরা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত ফাইজুর রহমান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের বলেছেন, সে একাই এ হামলা করেছে। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে এ ধরনের হামলায় সাধারনত অনেকে জড়িত থাকে। তিনি জানান, হামলাকারী ফাইজুর রহমান আমাদের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর পর উত্তেজিত ছাত্র জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। শাবি ক্যাম্পাস থেকে এখানে এনে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, এখন তাকে নিয়ে জালালাবাদ সেনানিবাসের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

র‌্যাব কমান্ডার আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে তার সাথে আর কেউ ছিল না। সে জাফর ইকবালকে ইসলামের শত্রু মনে করে হামলা করেছে। নিজেকে আলিয়া মাদরাসার ছাত্র বললেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও জানান আলী হায়দার আজাদ। ‘এখন পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত না, জঙ্গি গোষ্ঠী না একা, তবে সে শাবির ছাত্র নয়। অনুসন্ধান চলছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে’- বলে জানান এ র‌্যাব কর্মকর্তা।

কর্নেল আলী হায়দার আজাদ বলেন, ‘ফয়জুরের কাছ থেকে র‌্যাব বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল কাজ করছে। ইতোমধ্যে র‌্যাব তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ধরনের হামলা কেউ একা করতে পারে না। তার সঙ্গে আরও কেউ ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। তবে জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুর র‌্যাবকে জানিয়েছে, সে একাই হামলা চালিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ফয়জুর মাদরাসায় দাখিল পর্যন্ত পড়াশোনার পর আর পড়েনি। বিভিন্ন স্থানে সে কাজ করেছে।’

র‌্যাব জানায়, ফয়জুরকে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হবে। জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় মূল তদন্ত করবে পুলিশ। তবে র‌্যাব ছায়া তদন্ত করবে। ফয়জুরের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

কর্নেল আলী হায়দার আজাদ বলেন, ‘জাফর ইকবালের প্রতি ফয়জুরের আক্রোশ ছিল। জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু, এই আক্রোশে ফয়জুর হামলা চালায়।’

সিলেট শহরতলির কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়াস্থ ফয়জুরের বাড়ি থেকে কিছু ইসলামী বইসহ অন্যান্য আলামত র‌্যাবের একটি দল খতিয়ে দেখছে বলেও তিনি জানান।

র‌্যাব জানায়, সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার কালিয়াকাপন গ্রামের হাফিজ আতিকুর রহমানের ছেলে ফয়জুর রহমান। তার বাবা সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজের একটি মাদরাসার শিক্ষক।

এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, হামলাকারি ফয়জুর রহমানকে এজাহারভুক্ত আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন। আজ রোববার দুপুরে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

শাবির রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বলেন, হামলাকারি ফয়জুরকে একমাত্র এজহারভুক্ত আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শেখপাড়ায় অভিযান চালিয়ে যুবকের এক মামা ফজলুর রহমান (৩৫) ও ভোরে নিজ গ্রাম থেকে চাচা আবুল কাহার (৫৫) কে আটক করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। পুলিশ কমিশনার জানান, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না থাকলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হবে।

অপরদিকে ছুরিকাঘাতে আহত জাফর ইকবাল আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আজ ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) প্রেস ব্রিফিং এ চিকিৎসকরা এই কথা জানিয়েছেন। সকালে সিএমএইচ এর প্রশাসনিক ব্লকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আয়োজিত ব্রিফিং এ চিফ কার্ডিয়াক সার্জন এবং বাংলাদেশ আর্ম ফোর্সের কনসালটেন্ট সার্জন জেনারেল মে. জে. মুন্সি মো. মজিবুর রহমান জানান, অধ্যাপক জাফর ইকবাল এখন সম্পূর্ণভাবে আশঙ্কামুক্ত। তিনি কথা বলছেন এবং চিকিৎসকদের সহযোগিতা করছেন।

মজিবুর রহমান বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালকে সিএমএইচ এ ভর্তির পর কয়েকজন চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা সেবা দেন। তিনি এখন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে রয়েছেন। তিনি আরো জানান, অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ছুরি দিয়ে মাথার পিছনে চারটি, বাম হাতে একটি এবং পিঠে একটি আঘাত করা হয়েছে।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক এবং সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মুহম্মদ ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তার কোনো ত্রুটি ছিলো না। আজ রোববার রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় অবস্থিত নাজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

আসাদুজ্জমান খান বলেন, ‘জাফর ইকবালের নিরাপত্তার কোনো ত্রুটি ছিলো না, ত্রুটি থাকলে হামলাকারী ধরা পড়তো না। হামলাকারী ধরা পড়েছে তার কাছে হামলার বিষয়ে জানতে পারবো।’ সে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সুস্থ্য হলে তার কাছে হামলার মোটিভ জানতে পারবো।

শনিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর অতর্কিত হামলা করে ফয়জুর নামের ওই যুবক। সাথে সাথে আহত জাফর ইকবালকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১০টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিলেট থেকে ঢাকার সিএমএইচ-এ নেওয়া হয়। আজ রোববার সিএমএইচ-এর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জাফর ইকবাল শঙ্কামুক্ত। তবে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগবে। -বাসস