Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:১২ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

জাতীয় পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেশ

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ বেতন একলাখ টাকা করার সুপারিশ করে বহুল প্রতিক্ষীত জাতীয় পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন আট হাজার ২শ টাকা।

রোববার সকাল ৯টায় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে প্রতিবেদন তুলে দেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কমিশনের প্রস্তাব আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে।

পে-কমিশনের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বেতন একলাখ টাকা এবং সিনিয়র সচিবের বেতন হবে ৮৮ হাজার টাকা। এছাড়া সাধারণ কর্মচারী থেকে সচিব পর্যন্ত সর্বোচ্চ বেতন ৮০ হাজার আর সর্বনিম্ন ৮২০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ব্যয় হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। যারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন তারা প্রতি মাসে মূল বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত আরো ৪ হাজার টাকা পাবেন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা বাবদ ৩৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। নতুন পে-কমিশন বাস্তাবায়ন হলে বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। ২০ গ্রেডের পরিবর্তে ১৬ গ্রেডে নামিয়ে এনে বেতন বাড়ানো হচ্ছে। সারাদেশে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পে-কমিশনের আওতায় আসবে।

রোববার অর্থমন্ত্রীর কাছে পে-কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর পে-কমিশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের অষ্টম বেতন কাঠামোতে বাড়িভাড়া, গৃহনির্মাণ, চিকিৎসাভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য স্বল্পসুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ঋণের পরিমাণ হতে পারে ২৫ লাখ টাকা।

চেয়ারম্যান জানান, জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯’-এ সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এ মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

পে-কমিশনের প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো সরকারি চাকুরেদের স্বাস্থ্যবীমা ও এককালীন চিকিৎসা খরচ দেয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। বীমা সুবিধা পরিবারের সদস্যরাও পাবেন। পাশাপাশি চাকরিজীবীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের নামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি স্বাস্থ্যকার্ড ইস্যু করার কথা বলা হতে পারে প্রতিবেদনে।

সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। এছাড়া শিক্ষকদের বিষয়েও এই কমিশনে সুপারিশ থাকছে।

নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ তৈরির ক্ষেত্রে বাবা-মাসহ ছয়জনের একটি পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দুই সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমাদের ইচ্ছা আমরা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। আগামী অর্থবছর থেকে আমরা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। পে-কমিশনও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা বলেছেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে অর্থনীতির সঙ্গা বর্তমানে অর্থনীতির সঙ্গে মিল নেই। বর্তমানে অর্থনীতির একটি সন্তোষজনক  প্রশাসন  প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত বছরের ২৪ নভেম্বর পে-কমিশন গঠন করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যকার বিভিন্ন বৈষম্য দূরীকরণে পরামর্শ দেয়ার লক্ষ্যে গঠন করা হয় পে-অ্যান্ড সার্ভিস কমিশন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে ১৭ জন সদস্য রয়েছেন এই কমিশনে। তাদের চারজন স্থায়ী এবং বাকিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। কমিশন দু’টিকে ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। এই সময়সীমার মধ্যে তাদের নতুন বেতন কাঠামো এবং বৈষম্য দূরীকরণের প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে এই সময় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। ছয় মাস সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর এই কমিশনের মেয়াদ দুই দফা বৃদ্ধি করা হয়।

কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন ১৪ ডিসেম্বর তা অর্থমন্ত্রীর কাছে পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু এ সময় অর্থমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করায় তা আর সম্ভব হয়নি।