ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৫৫ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ফটো

জাতীয় ঐক্য হলেই ক্ষমতা থেকে আ. লীগের বিদায়! 

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মুক্তি পরিষদের আয়োজনে খালেদা জিয়া ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতীয় ঐক্য তৈরির কাজ চলছে। আমরা এ বিষয়ে নিয়মিত বসছি। আলোচনা করছি। এই জাতীয় ঐক্যে যদি সফল হওয়া যায় তবে আওয়ামী লীগ ৩ দিনের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

প্রতিবাদ সমাবেশ

জাতীয় প্রেসক্লাবে যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মুক্তি পরিষদের আয়োজনে খালেদা জিয়া ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠে নেমে আসতে হবে। যুবদলের নেতাকর্মীদের ঘরের ভেতর থেকে বাইরে আসতে হবে। দলে আমরা যারা বয়ষ্ক তারা সবাই মাঠে যাব। আপনারাও ঘরের ভেতর থেকে মাঠে যান। প্রয়োজনে ২০ জন ২০ জন করে মাঠে যান। দেখেন পরিস্থিতি কি হয়। বিএনপি যদি রাস্তায় নামে সরকারের দাঁড়ানোর উপায় থাকবে না।

তিনি বলেন, এমনি এমনি কোনো কিছুই পাওয়া যায় না। পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। আজ আমাদের নেত্রী ও গণতন্ত্রের মাতা কারাগারে। তাকে যদি কারামুক্ত করতে হয় তবে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। এই আন্দোলন চলছে। আরও বেগবান করতে হবে। যুবকদের মাঠে থাকতে হবে। আমি দেখেছি এই প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আমার বুকের উপর থেকে রাজকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। কিন্তু তাকিয়ে দেখি যুবকরা নেই। বক্তব্য শুরু হলেই পেছন থেকে যুবকরা সবাই চলে যায়। আজ সবাইকে আত্মসমালোচনা করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে জনগণের সঙ্গে তামাসা করছে। আজকের নির্বাচন কমিশন একটি অথর্ব কমিশন। তারা সরকারের নির্দেশ মতো কাজ করে তাদেরকে সহযোগিতা করছে। এই কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে গিয়ে ভোট দিতে পারবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারাই পরিস্থিতি তৈরি করছেন। সেই দিন বেশি দূরে নয়, যেদিন জনগণ তাদের জবাব দিয়ে দেবে। আওয়ামী লীগ তাদের জন্মের শুরু থেকেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, কোনদিন করেনি। তারা স্বাধীনতার পর সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। আজকে যেমন রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকে সেই দিনও এভাবে রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকতো।

তিনি বলেন, আমরা রাজপথে আছি এবং রাজপথে যাবো। কিন্তু এই আন্দোলনে যুবদল ও ছাত্রদলকেও নেতৃত্ব দিতে হবে। যারা যুবক-তরুণ তাদেরকে সামনে আসতে হবে। কারণ এখন আমাদের বয়স হয়েছে। তবে রাজপথ থেকেই গ্রেপ্তার হবো। যদি গুলি করে, আমরাও মরবো। কিন্তু সঙ্গে যুবকদের থাকতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে বাংলাদেশে আসছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধু রোহিঙ্গারা নয়, গোটা বাংলাদেশের মানুষ আজ শরণার্থী! সুতরাং জাতিসংঘের মহাসচিবসহ সকলের উচিৎ বাংলাদেশকে দেখতে আসা। যে, কী কারণে নিজ দেশে বাংলাদেশের মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে।

যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা শাহিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দীন মামুন প্রমুখ।