Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:০৩ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

জাতীয় ঐক্যের’ মন্ত্রিসভা হচ্ছে শ্রীলংকায়

শ্রীলংকার নতুন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন শনিবার একটি মন্ত্রিসভা গঠনে কাজ শুরু করেছেন।
সিরিসেনা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান নবায়ন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন।
ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসেকে পরাজিত করে সিরিসেনা শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীলংকার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
সিরিসেনার এক সহকারী বলেন, সিরিসেনা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্যের মন্ত্রিসভা গঠনের চেষ্টা করছেন।
সিরিসেনার সহকারী নিশান্থ বর্ণসিংহে এএফপিকে বলেন, ‘প্রধান কাজ হলো একটি মন্ত্রিসভা গঠন এবং এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।’
সিরিসেনা জরুরি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষে একটি ১০০ দিনের কর্মসূচি প্রস্তাব করেছেন। রাজাপাকসে তার এক দশকের শাসনকালে প্রেসিডেন্টের যে ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছেন তা আবার হ্রাস করাও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শপথ গ্রহণের পর পরই সিরিসেনা সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রনিল বিক্রমসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। তার হাতেও পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, সিরিসেনা রোববার পার্বত্য অবকাশ কেন্দ্র ক্যান্ডি থেকে জাতির উদ্দেশে আরেকটি ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমসিংহের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হযে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে মারা যাওয়া এক সমর্থকের শেষকৃত্যে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় রতœপুরা যাচ্ছেন।
মনে করা হয়, বিক্রমসিংহের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাজাপাকসের চেয়ে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে আঞ্চলিক শক্তি ভারত শ্রীলংকার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিক্রমসিংহে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন তিনি দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে পরিচালিত শান্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছিলেন।
২০০৬ সালে তামিল বিদ্রোহীরা শান্তি আলোচনা ছেড়ে লড়াইয়ে ফিরে গেলে নরওয়ের মধ্যস্থতায় চলা ওই শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এর পর পরই কট্টর জাতীয়তাবাদী মাহিন্দ রাজাপাকসে ক্ষমতায় আসেন। অনেক পশ্চিমা দেশ ব্যাপক মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার দিকে দৃষ্টি না দেয়ার অভিযোগে রাজাপাকসেকে এড়িয়ে চলে।
২০০৯ সালে তামিল বিদ্রোহ দমনের শেষ পর্যায়ে ব্যাপক হত্যাকা-ের অভিযোগ প্রশ্নে আন্তর্জাতিক তদন্ত পরিচালনায় অনুমতি দিতে অস্বীকার করায় ভারত ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন বিশ্বনেতা ২০১৩ সালের নভেম্বরে রাজাপাকসে আয়োজিত একটি কমনওয়েলথ শীর্ষ বৈঠক বর্জন করেন।
এদিকে সিরিসেনা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন প্রথমেই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শপথ গ্রহণের পর এক বক্তৃতায় সিরিসেনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শ্রীলংকার সম্পর্ক নবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের জনগণের জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে এমন এক পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করবো যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবো।’
গৃহযুদ্ধ দমনের শেষ ভাগে ৪০ হাজার বেসামরিক তামিল নাগরিক হত্যার অভিযোগ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাজাপাকসের সম্পর্কে চিড় ধরে। তিনি জাতিসংঘের অধীনে এ অভিযোগ তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান।
রাজাপাকসে ক্ষমতায় থাকাকালে তার দেশে ভারতের প্রভাব মোকাবেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। চীন এ সময় শ্রীলংকায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করে।
নেতৃত্বের পরিবর্তনে শ্রীলংকায় চীনের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে চীন এমন ধারণাকে গুরুত্ব দিতে প্রস্তুত নয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিসেনার নেতৃত্বে শ্রীলংকার সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন।
ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, এই আশাজাগানিয়া মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলংকার জনগণ ও সরকারের সঙ্গে এর অংশীদারিত্ব আরো গভীর করার এবং সকল নাগরিকের শান্তি, গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছেন, তারা প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার গণতান্ত্রিক সংস্কার, সুশাসন ও দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দেখার প্রত্যাশায় রয়েছেন।
সিরিসেনা তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার পূর্বসুরি রাজাপাকসেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
রাজাপাকসে সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিরিসেনা নির্বাচনে ৫১.২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপর পক্ষে রাজাপাকসে পান ৪৭.৫৮ শতাংশ ভোট।
এদিকে শ্রীলংকার গণমাধ্যম শনিবার এক বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করে সিরিসেনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সিরিসেনা দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং ওয়েবসাইটের ওপর বিধি-নিষেধ তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।