ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৫৪ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

জাতিকে বিভক্ত করতেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছিল।
তিনি আজ বিকেলে নগরীরর শাহবাগ চত্ত্বরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস-২০১৫ উপলক্ষ্যে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্ণেল(অব.) নজরুল ইসলাম এমপি বীরপ্রতীক।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদের গামা, মো. সালাহ উদ্দিন, মহসচিব (প্রশাসন) এমদাদ হোসেন মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ, এবং ঢাকা জেলা কমান্ড কাউন্সিলের মো. আবু সাঈদ।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, জার্মানীতে হিটলার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে লাখ লাখ মানুষকে খুন করে এবং যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমে তার পতন হয়।
তিনি বলেন, জার্মানীর মানুষ এখনও হিটলারের নাৎসী বাহিনীকে ঘৃণা করে এবং সেদেশের রাজনীতিতে তাদের কোন স্বীকৃতি নেই। সে দেশে কেউ হিটলারের নাম নেয় না।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘ আমরাও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত করেছি। আর স্বাধীন দেশে পরাজিত পাকিস্তানের কেউ নাম নিলে জাতি হিসেবে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।’
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করে জাতিকে বিভাজিত করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু ছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশের কথা চিন্তা করা যায়না উল্লেখ করে আশরাফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকালে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিচার হচ্ছে। এটা জাতির জন্য বড় পাওয়া। এতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা শান্তি পাবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের সাথে আমাদের দেশের কোন তুলনা নেই। পাকিস্তান যা পারেনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা আমরা পেরেছি।
সৈয়দ আশরাফ ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে সরকারী ভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। আর সে গাত্রদাহ থেকে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তান মিথ্যাচার করছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে একটি অকার্যকর জঙ্গীরাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আর বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যা পাকিস্তানের জন্য সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাজাহান খান বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানের সাথে একটি কনফেডারেশন গঠন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তার এ ষড়যন্ত্র কখনো বাস্তবায়িত হবে না।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে পলাশী যুদ্ধের খলনায়িকা ঘষেটি বেগমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
গত ৪ বছর ধরে ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। সারাদেশে এ দিবসটি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে থাকলেও তা সরকারিভাবে স্বীকৃতি লাভ করেনি। তাই দিবসটিকে সরকারিভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার দাবি জানানো হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সমাবেশের উদ্ধোধন ঘোষণা করা হয়। উদ্ধোধন শেষে সাদা কবুতর ও রঙ্গীন বেলুন আকাশে উড়িয়ে দেয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যবর্গ এবং শহীদ মুক্তিযযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।