ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:১১ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

এ কে এম শহীদুল হক

জন্মাষ্টমী উদযাপনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের সিদ্ধান্ত

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৈঠক করেছে পুলিশ। বৈঠকে জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার-ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল জনাব এ কে এম শহীদুল হক এর সভাপতিত্বে আজ বৃস্পতিবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আইজিপি বলেন, জন্মাষ্টমী নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। তিনি অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সহিষ্ণুতার মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উদযাপনের জন্য হিন্দু নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় আগতদের দেহতল্লাশী, ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে ফোর্স মোতায়েন, রুফটপে নিরাপত্তা, শোভাযাত্রার রুটে সিসিটিভি স্থাপন, শোভাযাত্রার ভিডিও ধারণসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া, জন্মাষ্টমীর উৎসবে যোগদানকারী বিদেশী অতিথিদের জন্যও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন ব্যক্তি বা মহল জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালালে অথবা কোন ধরনের ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় উপস্থিত হিন্দু নেতৃবৃন্দ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, হিন্দুদের সকল ধর্মীয় উৎসব পালনে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। নেতৃবৃন্দ এজন্য আইজিপিসহ পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সভায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোঃ মোখলেসুর রহমান, টিএন্ডআইএম’র অতিরিক্ত আইজিপি বিনয় কৃষ্ণ বালা, ডিআইজি (মিডিয়া এন্ড প্ল্যানিং) মোঃ মহসিন হোসেন, ডিআইজি (প্রশাসন) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ডিআইজি (অপারেশনস্) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, এনএসআই’র পরিচালক মেজবাহ্ উদ্দিন, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মোঃ শাহাব উদ্দীন কোরেশী, সিটি এসবির ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, সিটিটিসি’র ডিআইজি মোঃ মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায়, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রতিনিধি নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, স্বামীবাগ আশ্রম ইসকনের সাধারণ সম্পাদক মাধব মুরারী দাস, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস প্রমুখসহ আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। -ডিএমপি নিউজ।