তোফায়েল আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ফাইল ফটো

জনবিচ্ছিন্নতার কারণে ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি : তোফায়েল

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথেষ্ট প্রস্তুতির অভাব ও জনবিচ্ছিন্নতার কারণে ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট বিচার-বিবেচনা না করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন। একই সঙ্গে যেসব প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন তারা গত ১০ বছর নির্বাচনী এলাকায় যাননি। তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি কম ছিল এবং জনবিচ্ছিন্নতার কারনেই তাদের ভারডুবি হয়েছে।’

জনগণ বিএনপি-জামায়াত ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে ৩০ ডিসেম্বরের জন্য অপেক্ষা করেছে। এই দিনে যে নির্বাচন হয়েছে তা ঐতিহাসিক নির্বাচন। কারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের একটি ক্ষোভ ছিল জামায়াত-বিএনপি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। এ দিনে তারা ভোট প্রদানের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর তরুণ সমাজ এবার নৌকায় ভোট দিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির মাধ্যমে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে মানুষ হত্যা ও সম্পদহানির যে ঘটনা ঘটিয়েছিল তা জনগণ মেনে নেয়নি। এবারের নির্বাচনে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার বাংলাদেশের ৩৯টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এটি ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। বিএনপি আসলে নির্বাচনের প্রতি মনযোগী ছিল না। তারা আসলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি ছিল না। এ ছাড়া তাদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা ছিল।

ড. কামাল নীতি বিসর্জন দিয়ে জামায়াতে সঙ্গে জোট করেছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ড. কামাল হোসেন দল ও নীতি বিসর্জন দিয়ে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে যে নির্বাচনি জোট করেছিল জনগণ তা মেনে নিতে পারেনি। কারণ ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের পরররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ। সেই মানুষটি যখন দল ও চেতনা বিসর্জন দিয়ে জামায়াত ও জঙ্গিদের নিয়ে জোট গঠন করে তখন জনগণ তা মেনে নেয়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশ উন্নয়নের চরম শিখওে পৌঁছে যাবে। ইতোমধ্যে গ্রাম শহরে পরিণত হয়েছে, বাকিটুকুও হবে। এটা আমাদের উন্নয়নের লক্ষ্য। সামাজিক বেষ্টনীর কারণে গ্রামের মানুষ উপকার পেয়েছে। তাই জনগণ নৌকায় আস্থা রেখেছে।