ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৩৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৪ই আগস্ট ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

জনগণই হবে দুর্যোগ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় শক্তি- প্রধানমন্ত্রী

শীর্ষ মিডিয়া ১২ অক্টোবর ঃ    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জানমাল এবং পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা অনেকাংশে সম্ভব। দেশের জনগণই হবে দুর্যোগ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই আমি দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৪ উপলক্ষে দেয়া বাণীতে এ আহবান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বর্তমান সরকার গৃহীত কার্যক্রমের ফলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি অনুসরণীয় দেশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সার্ক এগ্রিমেন্ট অন রেপিড রেসপন্স টু ন্যাচারাল ডিজাস্টার’ চুক্তি সম্পাদন করেছি। দ্রুত সাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ওয়াসা, টিএন্ডটি, তিতাস গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সামর্থ্য বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচিকে (সিপিপি) সরকারি তহবিল সরবরাহ করেন। সিপিপিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সরকার যৌথ কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেন। যা দেশের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে একটি অনন্য মাইলফলক।
তিনি বলেন, জাতির পিতা উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির কেল্লা তৈরি করেন যা আজো ‘মুজিব কিল্লা’ নামে পরিচিত। এ সকল কিল্লা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রাণিসম্পদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সুসমন্বিত ও উন্নত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি ১৯৯৭ প্রণয়ন করিÑ যা ২০১০ সালে সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হয়। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০১০-২০১৫ এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১১ প্রণয়ন করি। এ ছাড়া শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে র‌্যাম্প স্থাপন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোন দুর্যোগে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ব্যক্তিগণই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রবীণদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আমরা দুর্যোগ মোকাবেলায় জীবনব্যাপী সক্ষমতা অর্জন করতে পারি।
এ প্রেক্ষিতে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘জীবনব্যাপী সক্ষমতা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৪’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।