Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:২১ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

শ্রমিকদের কাজে যোগদান
শ্রমিকরা দলে দলে নিজ নিজ পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দেন।

‘জঙ্গী হামলা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাক ক্রয় করবে’

দেশে সাম্প্রতিক জঙ্গী হামলা সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম পোশাক বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর এ্যালায়েন্স বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাক ক্রয় অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

সম্প্রতি গুলশানের একটি রেঁস্তোরা এবং এরপর কিশোরগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আশঙ্কা করা হয়েছিল যে দেশের সবচেয়ে বেশী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরী পোষাক খাতের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে, এ্যালায়েন্সের আজকের এ ঘোষণায় এ আশঙ্কার অবসান হলো।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধ্বসে ১১শ’ জনের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি ও শ্রমিকদের ক্ষমতায়নে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বের বৃহৎতম ২৮টি পোশাক বিপণন প্রতিষ্ঠান ( ফ্যাশান ব্রান্ড এ্যান্ড রিটেইলারস) নিয়ে গঠিত হয় এল্যায়েন্স নামে এই পোশাক বিপণন জোঠ। বাংলাদেশে এ এ্যালায়েন্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেমস মরিয়াটি পোশাক খাতে সংগঠনটির নেয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে আজ ঢাকায় ত্রৈমাসিক রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এক ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এ্যালায়েন্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত মরিয়াটি বলেন, সাম্প্রতিক শোকবহ ঘটনাগুলো সত্ত্বেও এল্যায়েন্স ও আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখবে। কারণ বাংলাদেশের তৈরী পোষাক খাতে জীবিকার্জনকারী লাখ লাখ নারী ও পুরুষের নিরাপত্তার সুরক্ষায় সহায়তা করা একটি নৈতিক দায়িত্ব।

এই জোটের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-এরিয়েলা এন্ড এ্যাসোসিয়েট ইন্টারন্যাশনাল এলএলসি, বন ওয়ার্থ, কানাডীয়ান টায়ার কর্পোরেশন লিমিটেড, কাটার’স ইঙ্ক, দ্য চিলড্রেন প্যালেস রিটেইল ষ্টোরস ইঙ্ক, হাডসন’স বে কোম্পানী, আইএফজি কর্পো, ইন্ট্রাডেকো এ্যাপারেল, জে সি পেন্নি কোম্পানী ইঙ্ক, জোরডেক এন্টারপ্রাইজেস, দ্য জাস্ট গ্রুপ, কেট স্পেড এন্ড কোম্পানী, কোল’স ডিপার্টমেন্ট স্টোরস, এল এল বিন, এম হায়দারী এন্ড কোম্পানী, মেসি’স নাইন ওয়েস্ট হোল্ডিং, ভিএফ কর্পোরেশন, ওয়াল-মার্ট স্টোরস এন্ড ওয়াই এম।

এ্যালাইয়েন্স, এর সদস্য ও স্টাফদের পক্ষে মরিয়াটি বলেন, আমরা সাম্প্রতিক এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার পাশে থাকবো। এ চ্যালেঞ্জ উত্তরণে আমরা বাংলাদেশের মানুষের শক্তি দেখে উৎসাহিত।

পোষাক খাতে কর্ম পরিবেশের উন্নয়নকে ইতিবাচক উল্লেখ করে এ সম্পর্কিত রিপোর্টে বলা হয়, এ পর্যন্ত ২৮টি কোম্পানী কারেকটিভ এ্যাকশন প্লানস (সিএপি) বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে, যা আমাদের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে ১৭ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের দু’বছর আগেই নিরাপত্তার বিষয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এক তৃতীয়াংশেরও বেশী সমস্যার ইতিমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, যথাযথ সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রথম ত্রৈমাসিকের পর থেকে এ পর্যন্ত আরো ৬টি কোম্পানীর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে এ সংখ্যা ৮৩টিতে দাঁড়ালো।

মরিয়াটি বলেন, এ্যালায়েন্স অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়ে এ পর্যন্ত ১২ লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ৭৭০টির অধিক কারখানার ১১ লাখ শ্রমিকের এ্যালায়েন্সের কনফিডেন্সিয়াল ওয়ার্কাস হেলপলাইনে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। আমি গর্বিত যে এ সব সংস্কারমূলক ও শ্রমিকের ক্ষমতায়নের পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের তৈরী পোষাক খাতে অনেক নিরাপদ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।