ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৫৮ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ যে নামে, যে ভাবেই আসুক, ‘দমন করব’- প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমন করে মানুষের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনায় তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, তাঁর সরকার কোনভাবেই বাংলার মাটিতে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে বিস্তার লাভ করতে দেবে না।

তিনি বলেন, ‘এই জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ যে নামে, যে ভাবেই আসুক না কেন, তাদেরকে আমাদের দমন করতেই হবে এবং সেটা আমরা করব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ‘জনপ্রশাসন পদক ২০১৬’ বিতরণকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতায় জঙ্গি দমনে তাঁর জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডই আমরা বাংলার মাটিতে হতে দেব না। মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব।’

তিনি বিষয়টি সবাইকে মাথায় রেখে কাজ করে যাবার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই আমরা তা পারব। তা যে পারি, সেটা বিশ্বকে আমরা দেখিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী মাত্র ১০ ঘন্টার মধ্যে গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনার সমাপ্তি টেনে বিদেশী নাগরিকসহ অনেক জিম্মীকে জীবন্ত উদ্ধার করাকে তাঁর সরকারের সাফল্য বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই পদক বিতরণ করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ. এম. আশিকুর রহমান এমপি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরীও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সরকারি কমকর্তাদের প্রভু হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত নিস্পত্তিতে আন্তরিক হবার আহবান জানান।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনেও প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকতাদের নিজ নিজ ক্ষেত্র- প্রতিষ্ঠানে ভূমিকা রাখার আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ধরনের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আমরা বাংলার মাটিতে হতে দেব না। মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব।

তিনি বলেন, এটা মাথায় রেখেই আমাদের কাজ করতে হবে- আমি বিশ্বাস করি, অবশ্যই আমরা তা পারব। তা যে পারি, সেটা বিশ্বকে আমরা দেখিয়েছি।

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের হত্যা করে জিম্মি উদ্ধার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশ বোধহয় পৃথিবীতে একমাত্র দেশ ..১০ ঘণ্টার মধ্যে সেই জঙ্গি দমন করে অনেক হোস্টেজ, তাদের জীবনকে রক্ষা করতে পেরেছি।’

এই ধরনের ঝামেলা মোকাবেলায় সরকারের ‘দ্রুত পদক্ষেপ’ নেয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

ধর্মের নামে জঙ্গিবাদী তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘মানুষ খুন করে (কেউ যদি মনে করে থাকে) বেহেশতে গিয়ে হুর পরি পাবে, তা কখনও হবে না। এটা মোটেই ইসলামের শিক্ষা না।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে এবং মাঠ পর্যায়ে যারা আছেন, তারা ধর্মের প্রকৃত যে শিক্ষা, সেই শিক্ষাটা যেন মানুষ পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির স্বার্থে চাকরি নয়, জনগণের জন্য কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মীদের অনেক উন্নতি করে দেয়া হয়েছে। কাজে মনযোগ দিলে আগামীতে আরও উন্নতি হবে।

সেবার মনভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি দিয়েছি। ১২৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করেছি। আমরা যে বাজেট বা কর্মসূচি হাতে নেই তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এটিই চাই। এজন্য কর্মচারীদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। শুধু চাকরির স্বার্থে চাকরি নয়, জনগণের জন্য কাজ করা পবিত্র দায়িত্ব, সে হিসেবে কর্মসম্পাদন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মচারীদের সম্মানজনক পদবি ছিল না, কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি পদের নাম পরিবর্তন করে সম্মানজনক পদবি আমরা দিয়েছি। আমরা প্রায় সর্বক্ষেত্রে এটি করেছি, সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই।

সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নানামাত্রিক প্রশিক্ষণে জোর দিয়েছি। বিশ্ব প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমাদের চলতে হবে। আজকের বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক। প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদেরও তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আর এতে প্রশিক্ষণের ওপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।