ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৫৫ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নুরুল ইসলাম নাহিদ
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ

জঙ্গি তৈরির কারখানা ‘মাদ্রাসা’ ‘এমন অভিযোগ ঠিক নয় : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘মাদ্রাসা জঙ্গি তৈরির কারখানা’ বলে যে অভিযোগ করা হতো, তা মোটেও ঠিক নয়। তিনি বলেন, সন্তানরা যাতে বিপথগামী না হয়, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে সেজন্য শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকলকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ইসলামের পথ নয়।

শিক্ষামন্ত্রী আজ রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম) মিলনায়তনে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাদরাসার ফাজিল অনার্স শিক্ষার মান উন্নয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক অধ্যাপক মো. ইলিয়াছ সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী বলেন, ইসলামী শিক্ষার উন্নতির পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন আলেমদের। এর ফলে আলেমরা শুধু আলেমের মধ্যেই সীমাবন্ধ থাকবেন না। তারা সচিব, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার হয়ে উঠবেন, দেশ পরিচালনা করবেন।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বক্তৃতায় মাদরাসায় প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামের ব্যাখ্যা ও বাস্তব জীবন ব্যবস্থার জন্য উচ্চশিক্ষার দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদরাসায় প্রকৃত ইসলামী জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানও অর্জন করতে হবে। তার জন্যে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্ঞান ও গবেষণা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আলেমদের ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল শত বছরের। বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারও তা করেনি। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আলেম-ওলামাদের দীর্ঘদিনের দাবি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ সময় আরও বলেন, ‘মাদ্রাসা জঙ্গি তৈরির কারখানা’ বলে যে অভিযোগ করা হতো, তা মোটেও ঠিক নয়। একথা আপনারা মোটেও কেউ বলবেন না। গুলশান জঙ্গি হামলার সাথে জড়িতদের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, এর সাথে জড়িতরা ছিল উচ্চ শিক্ষিত ও উচ্চ বিত্তের সন্তান। সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে কঠোর হস্তে দমন করছে বলে তিনি তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় চালুর শুরুতে ৩১টি মাদরাসায় অনার্স কোর্স ছিল। বর্তমানে তা ৫২টিতে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ৫৩টি আলিম এবং ২২১টি ফাজিল ও কামিল মাদরাসা রয়েছে। এর মধ্যে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় উচ্চমানের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধিকে আরও বাড়াতে ৪৮৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। যা একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৩৩২টি নতুন প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসায় ভবন করা হয়েছে জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আরও ১৮শ’ মাদ্রাসায় ভবন তৈরি করার পরিকল্পা নেয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যদা দেয়া হয়েছে। তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাদ্রাসার শিক্ষার উন্নয়নে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে মডেল মাদ্রাসা হিসেবে উন্নিত করেছে। নামি-দামি স্কুলগুলোর মতোই, এগুলোতে ল্যাব, লাইব্রেরিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে। ফলে ফলাফলও ভাল হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে পারলে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবো। এজন্য আমাদেরকে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা যখন প্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছিলাম, অনেকেই তখন এটা নিয়ে হাসি-তামাশা করেছিল। আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাইলেজেশনে আমরা সফল হয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদশ এখন স্বপ্ন নয়, এখন তা বাস্তব।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাকে আধুনিক করার লক্ষে শিক্ষা নীতিতে আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, আমরা সকলের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করছি।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ফাজিল অনার্স মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।