Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:২৮ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৩ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় রাজনৈতিক-প্রশাসনিক অবস্থান অব্যাহত থাকবে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন ,সরকার জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় যে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক অবস্থান গ্রহণ করেছে তা অব্যাহত থাকবে এবং জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেই সরকার গণতন্ত্র, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখবে।
তিনি সোমবার তথ্য অধিদফতরের সন্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এতে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।
‘জঙ্গিবাদের উত্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য সরকারই দায়ী’- মওদুদ আহমেদের এই বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন,তার এ বক্তব্য দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান এবং বিএনপি-জামাত জঙ্গিবাদীদের সম্মিলিত আগুনসন্ত্রাস-নাশকতা-অন্তর্ঘাত-সহিংসতা-নৈরাজ্যকর রাজনীতিকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।
এছাড়াও ‘কিছু বিপথগামী’ শব্দটি ব্যবহার দেশে জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদী শক্তির সুসংগঠিত উপস্থিতি ও তৎপরতাকে আড়াল করাই অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবিধান, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্রকে উর্ধ্বে তুলে ধরেই দেশ শাসন করছে। সন্ত্রাসবাদ-অন্তর্ঘাত-নাশকতা-সহিংসতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া, গণতান্ত্রিক শক্তি বা গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ নয়।
তিনি বলেন, দেশবাসী সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি-জামাত-স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ ছেড়ে সরাসরি সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-অন্তর্ঘাত-নাশকতার পথ গ্রহণ করে, যার সর্বশেষ রূপ ছিল আগুনসন্ত্রাস-আগুনযুদ্ধ। বিএনপি-জামাত আজ নিজেরাই সন্ত্রাসবাদী-নৈরাজ্যবাদী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আর বিএনপির সাথে যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদী-মৌলবাদী গোষ্ঠীর ‘রাজনৈতিক সন্ধি’ দেশবাসীসহ কারও অজানা নয়
‘দেশে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনের দুটি পথ খোলা আছে – মওদুদ আহমেদের এমন প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনের ঐক্যের’ কথা বলে আবারও বিএনপির সাথে জামাত-জঙ্গিবাদ-মৌলবাদী রাজনৈতিক সন্ধি’কে হালাল করতে চাইছেন।
বিএনপি’র গণতন্ত্র বা নির্বাচনকে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ হালাল করার দরকষাকষি হাতিয়ার বানানোর অপচেষ্টা সফল হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন তথ্যমন্ত্রী ।
তিনি বলেন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারসমূহের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকার বা কেউই নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাঁধা দেয়ার ক্ষমতা বা এখতিয়ার রাখে না।
বিএনপি ইচ্ছামত নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা বর্জন করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন , বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বা নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ আর জয়ী হওয়াটাই কি গণতন্ত্র বা নির্বাচনের সমর্থক কিনা প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী ।
তিনি বলেন, বরং এটা সুস্পষ্ট, নির্বাচন বিএনপির আসল এজেন্ডা না। তারা নির্বাচনের দাবির আড়ালে জলঘোলা করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করে দেশকে সংবিধানের বাইরে ধাক্কা মেরে ঠেলে দিয়ে অস্বাভাবিক সরকার ক্ষমতায় আনতে চায়।
দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তাই ঐক্য বা জাতীয় ঐক্যের নামে বিএনপি যে জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদীদের আড়াল বা হালাল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাও সফল হবে না বলে দৃঢ়তার সাথে বলেন তথ্যমন্ত্রী ।

FOLLOW US: