Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৪৭ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ফটো

জঙ্গিবাদবিরোধী ভূমিকা পালনে সচেষ্ট হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের যে কোনো পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে দায়িত্ব পালন ও জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবিরোধী সরকারের কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেষ বিচার তো তিনি আল্লাহ করবেন। কাজেই এভাবে মানুষকে উজ্জীবিত করতে হবে ও সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদবিরোধী ভূমিকা প্রত্যেককে পালনে সচেষ্ট হতে হবে।’

তিনি বলেন, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাটাই সবার আগে শিখতে হবেÑসেটাই পালন করতে হবে। সেটাই কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ। কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে নয়, সে দায়িত্ব তো আল্লাহ নিয়েছেন।

শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের জঙ্গিবাদবিরোধী দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলনের প্রসংগ তুলে বলেন, আজকে ধর্মের নামে উন্মাদনা করে মানুষ হত্যা করে একদিকে যেমন ইসলাম ধর্মকে মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, তেমনি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। কাজেই এসবের থেকে মানুষকে কীভাবে দুরে রাখা যায়, সে বিষয়ে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে আমরা একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছি। যেন ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ কখনও বাংলার মাটিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নবীন কর্মকর্তাদের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হবে। উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা সব সময়ই আপনাদের থাকতে হবে।…কোন এলাকায় কোন জিনিষটা উৎপন্ন হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমী মিলনায়তনে ৯৮ ও ৯৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপণী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিাথির বক্তৃতা করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমীর রেক্টর ড. এম আসলাম আলম।

রেক্টর পদক জয়ের অনুূভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন ’৯৮ ও ’৯৯তম কোর্সের রেক্টর পদক জয়ী মো. সোহাগ হাওলাদার ও মো. নাহিদুল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ’৯৮ এবং ’৯৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র এবং শীর্ষস্থান অর্জনকারি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করেন।

৯৮তম কোর্সের মোধাক্রম অনুয়ায়ী প্রথম স্থান অধিকারকারি মো. সোহাগ হাওলাদার, দ্বিতীয় প্রণব কুমার ঘোষ এবং তৃতীয় আসিফ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

৯৯তম কোর্সে প্রথম স্থান অধিকারকারি মো. নাহিদুল করিম, দ্বিতীয় মো. এনামুল হক এবং তৃতীয় মো. মাহফুজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে ৯৮ ও ৯৯তম কোর্সের রেক্টর পদক জয়ী মো. সোহাগ হাওলাদার ও মো. নাহিদুল করিমের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী একাডেমী লাইব্রেরীতে নবনির্মিত মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন নতুন করে আবার একটা উৎপাত শুরু হয়েছে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ। যে কোনভাবেই হোক বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতেই হবে। সেজন্য আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করার একটা উদ্যোগ নিয়েছি। এর ফল আমরা পাচ্ছি। কারণ প্রত্যেকটা মানুষই শান্তিতে বসবাস করতে চায়। ইসলাম ধর্ম কখনও মানুষ খুন করতে বলেনি। মানুষের জীবন থাকবে কি থাকবে না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিয়েছেন। এটা তো মানুষের হাতে নেই। এটা মানুষকে বোঝাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমরা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ-এটাই আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা সেটা অর্জন করতে পারব। সেই বিশ্বাস আমার আছে। তবে, সেখানে মূল কাজটা আপনাদেরই করতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে আপনারা যারা নবীন কর্মকর্তারা এখানে প্রশিক্ষণ নিলেন আপনাদেরকে আমি আহবান জানাব- এই লক্ষ্য অর্জন করে আমার দেশের মানুষ যেন ভালভাবে বাঁচতে পারে, মানুষ যেন উন্নত জীবন পেতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করার জন্য আমি সবাইকে আহবান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় মনে রাখতে হবে বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল। প্রযুক্তি প্রতিনিয়তই আরো উন্নত হচ্ছে। এই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই আপনাদেরকে চলতে হবে এবং দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের সেবা করা, সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো কথা। আপনি প্রশিক্ষণ শেষে যেখানে কাজে যাবেন সেখানে এই কথাটাই সবসময় মনে রাখবেন মানুষের কল্যাণ কিভাবে করা যায়। মানুষকে কিভাবে সুন্দর জীবন দেয়া যায় এবং মাতভূমিকে আরো উন্নত করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানের ২১ এর (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘সকল সময় জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’

কাজেই এই সংবিধানের কথাটা সবসময় মনে রাখতে হবে উল্লেখ করেন তিনি।

শুধু বাংলাদেশ নয়, আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে একটা সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য তাঁর সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা আমরা বৃদ্ধি করেছি। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আঞ্চলিক সহযোগিতার বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভূটান, ইন্ডিয়া, নেপাল) এবং বিসিআইএন-ইসি (বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার-অর্থনৈতিক করিডোর) উদ্যোগ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ভারত-মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সমস্যার সমাধান এবং ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময়ে তার সরকারের সাফল্যও তুলে ধরেন।

দারিদ্র বিমোচনে তার সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাম। গ্রামের অর্থনীতিটাকে আমরা আরও শক্তিশালী ও উন্নত করতে হবে। গ্রামে দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কর্মসূচি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে যাচ্ছি।

এজন্য শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা ইতোমধ্যেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একজন মুখ্য সমন্বয়ক নিয়োগ দিয়েছি। যিনি আমার পূর্বের মুখ্য সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন তাকেই আমি দায়িত্ব দিয়েছি। এসডিজি আমরা বাস্তবায়ন করে সমগ্র বিশ্বকে আমরা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, যেভাবে আমরা এমডিজি বাস্তবায়ন করেছি। আমি বিশ্বাস করি আমরা সেটাও অর্জন করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোন পরিস্থিতিতে নবীন কর্মকর্তাদের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হবে। সব সময় মনে রাখতে হবে উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা, সেটা কিন্তুু আপনাদের থাকতে হবে। যেমন হ্যারোড’স এরকম বড়ো দোকানে আজকে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের চা।

পঞ্চগড়ে তার পরামর্শেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চা উৎপাদন শুরু হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চগড়ই শুধু না দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলেও আমরা এটা করতে পারি। কারণ আমি বাংলাবান্ধা সীমান্তে হেঁটে দেখেছি সীমান্তে ভারতের অনেক চা বাগান রয়েছে তাজেই আমরা কেন করতে পারব না।

তিনি বলেন শুধু চা বাগান নয়, এরকম চিন্তা-ভাবনাটা থাকতে হবে- কোন এলাকায় কোন জিনিষটা উৎপন্ন হতে পারে। আজকে সিলেট অঞ্চলে কমলালেবু হচ্ছে এটার ও প্রজেক্ট আমরা ’৯৬ সালে সরকারে আসার পর নিয়েছিলাম কিভাবে ১১ প্রকারের লেবু উৎপাদন করা যায়। তেমনি পার্বত্য চট্ট্রগামে দীর্ঘকাল একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি ছিল সেখানে আমাদের সরকারের শান্তি চুক্তির ফলে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামেরও উন্নয়ন হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কল্যাণে যেমন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে তেমনি ফল-ফলাদি সহ অনেক কিছুই সেখানে এখন উৎপাদন হচ্ছে। এরকম বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকারই এক একটা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কাজেই সেই জায়গার উপযোগ ও চাহিদা বুঝে এক একটা জিনিস সেখানে উৎপাদন করতে পারলে এলাকার জনগণের মধ্যে যেমন অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য আসে তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও এটি বড়ো ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশেও রপ্তানী করতে পারব। এভাবে উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই কিন্তু এলাকার জনগণকে সম্পৃক্ত করে অবদান রাখা যেতে পারে।
দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের উদ্যোগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী আমরা মাঠ পর্যায়ে জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য ইনোভেশন টিম গড়ে তুলেছি এবং প্রধামন্ত্রীর কার্যলয়ের এটুআই প্রকল্পের সাহায্যে একটি ফান্ডও এজন্য গড়ে তোলা হয়েছে।

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খানিকটা তুলে ধরে বলেন, আজকে আপনারা দেখেছেন- আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগে উন্নীত করেছি। রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ইউএস মার্কিন ডলার। মাথাপিছু আয় ১৪ শ’৬৬ মার্কিন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের উদ্যোগে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, মেট্রোরেল, নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি চিত্র ও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের সর্বক্ষেত্রে সব জায়গায়ই বাঙালিরাই আছি। পাকিস্তান আমলে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই বাঙালিরা ছিল সম্পূর্ণভাবে অবহেলিত। সচিবালয়ে ৬৯২ জনের মধ্যে বাঙালি অফিসার ছিল মাত্র ৪ জন। সামরিক ক্ষেত্রে অবস্থা আরো করুণ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের মুক্তিযুদ্ধেও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতা অর্জন এত সহজ ছিল না। জাতির পিতা বাংলার মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে বহু জেল, জুলুম, নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। তার নেতৃত্বে ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ আত্মাহুতি এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। আমরা বিজয়ী জাতি আজ।’

প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে বলেন, তার সরকার বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করাতেই মোবাইল এখন সকলের নাগালের মধ্যে। সারাদেশে ডিজিটাল সেন্টার করা হয়েছে। সমগ্র দেশে ইন্টারনেট সার্ভিসের আওতায় এসেছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঘরে বসে দেশের মধ্যে এবং বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কোরবানির গরুও কিন্তু এখন অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিজস্ব উদ্যোগ্যেই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণে বহি:র্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির প্রশ্নটা যখন উঠলো, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, আমাকে দুর্নীতি দেখাতে হবে মুখে বললে হবে না। তারা প্রমাণ করতে পারেনি।’

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পরবর্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পরই বাংলাদেশে ‘হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি শুরু হয়। এই রাজনীতি আমাদের দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

বিগত বিএনপি-জমায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক দিনে ১৩ জন সচিবের চাকরি খেল। সামরিক বাহিনীর অবস্থা তো আরও খারাপ। প্রায় ১২শ’ কর্মকর্তাকে সামরিক বাহিনী থেকে বিদায় দিয়ে দিল।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারি এবং মন্ত্রি পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্বৃতি উল্লেখ করেন।
বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘সরকারি কর্মচারি ভায়েরা আপনাদের জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবকিছুর উর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। এখন থেকে অতীতের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নিজেদের জনগণের খাদেম বলে বিবেচনা করতে হবে।’
এই উপদেশটি প্রধানমন্ত্রী সকলকে মনে রাখার আহবান জানিয়ে সকলের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা পর্ব শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।