শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:২২ ঢাকা, সোমবার  ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ
রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উন্নয়ন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ একুশ শতকের অগ্রসর ও উন্নত দেশ নির্মাণে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাসমূহ খুঁজে বের করে তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সকলকে বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বিকেলে এখানে চরফ্যাসন সরকারি টি বি হাইস্কুল মাঠে এক জনসভায় ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল তবে এই সম্ভাবনা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে,… দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এই সম্ভাবনা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়ন একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া এবং কেউ উন্নয়নের গতি এনে দিতে পারে না, বিভিন্ন উপায়ে তা অর্জন করতে হয়। তিনি অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে এগিয়ে যেতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এই ছোট ভূখন্ডে দেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যাকে বিপুল মানবসম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি এই বিপুল জনসংখ্যা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা না যায় তাহলে দেশের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাবে।’

আবদুল হামিদ স্থানীয় পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের জনস্বার্থের প্রতি অগ্রাধিকার দিতে এবং নিজ নিজ দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি তাদের উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘মনে রাখবেন সরকারের ভাবমূর্তি, সাফল্য এবং ব্যর্থতা সম্পূর্ণ আপনাদের আচরণ এবং দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করছে। এ জন্য জনগণের সেবক হিসেবে আপনাদের সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।’ তিনি সরকারের সেবা কেন্দ্রগুলোকে ‘জনগণের’ সমস্যা সমাধান কেন্দ্রে পরিণত করার নির্দেশ দেন। শিক্ষাকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিশুদের দক্ষ ও সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে সময়োপযোগী শিক্ষাদানে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

চরফ্যাশনের চমৎকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অবকাঠামো, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, নদী সংরক্ষণ, অফিস-আদালতসহ অনেক এলাকায় সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে।

এখানে পর্যটনের অত্যন্ত উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় লোকদের এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি ১৮তলা বিশিষ্ট ২২০ ফুট উচ্চতার সমান টাওয়ার নির্মাণকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, টাওয়ারটি দেশী ও বিদেশী পর্যটক আকর্ষণে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু ও আধুনিক এই ‘জ্যাকব টাওয়ার’ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, আফজাল হোসেন এমপি, আলী আজম মুকুল এমপি, চরফ্যাশন সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল কায়সার আহমেদ দুলাল, নুরুননবী চৌধুরী শাওন এমপি এবং চরফ্যাশন মিউনিসিপ্যালিটির মেয়র শ্রী বাদল কৃষ্ণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

এরআগে, রাষ্ট্রপতি এখানে ৪টি স্থাপনা- প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ, বেগম রহিমা ইসলাম ডিগ্রী কলেজ, নজরুল ইসলাম টিচারস’ ট্রেনিং কলেজ এবং রসুলপুর-আওয়াজপুর মৈত্রী সেতু উদ্বোধন করেন। রাষ্ট্রপতি দু’দিনের ভোলা সফরে আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে এখানে পৌঁছান। আগামীকাল তিনি ভোলা সদর উপজেলায় এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।

রাষ্ট্রপতি আগামীকাল বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।