ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:০৫ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

বাগেরহাটে কাঁটাতারে অবরুদ্ধ
শরণখোলার রাজৈর এলাকায় এক দুবাই প্রবাসীর পরিবারকে কাঁটাতার দিয়ে অবরুদ্ধ

ছাত্রলীগ নামধারীর জমি দখলে অবরুদ্ধ পরিবার

বাগেরহাটের শরণখোলার রাজৈর এলাকায় এক দুবাই প্রবাসীর পরিবারকে কাঁটাতার দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রলীগ নামধারী নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ও ইউপি সদস্য আ. রহিম হাওলাদার। গত পাঁচদিন ধরে ওই পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

তারা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে যেন না পারে সে জন্য তাদের মোবাইল ফোনটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরিবারটি তাদের কোনো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। পারছে না প্রবাসী অভিভাবকের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে! পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় দুটি শিশু সন্তান নিয়ে পরিবারটি বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছে!

অবরুদ্ধ পরিবারটি জানিয়েছে, গত ৩জুন শরণখোলা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ ও ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর এলাকার দুবাই প্রবাসী মো. খলিলুর রহমান তালুকদারের বাড়িতে লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। খলিলের বাড়ির মধ্যে তাদের জমি রয়েছে দাবি করে পুরো বাড়িঘর কাঁটা তার দিয়ে ঘিরে ফেলে তারা। ঘটনাটি গৃহকর্তার স্ত্রী ফহিমা বেগম মোবাইল ফোনে তার ভাইকে জানাতে গেলে ছাত্রলীগ নেতা আসাদ মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এ সময় গৃহকর্তা খলিলুর রহমানকে মারধর করে ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য শাসিয়ে যায়। এর পর থেকে ওই পরিবারটি দুটি শিশু সন্তান নিয়ে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবযাপন করছে। খবর ইত্তেফাকের।

ঘটনা শুনে বৃহস্পতিবার (৭জুন) দুপুরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে আশাপাশের লোকজন এ ব্যপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এ সময় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা করে ওই পরিবারটি।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকলেও তিনি জমি দখল বা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় জড়িত নন।

ছাত্রলীগ নামধারী নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, খলিলের বাড়ির মধ্যে পাওনা জমি কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে দখলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের জমির ওপর দিয়ে তাদের বের হতে দেওয়া হবে না।

খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা অমানবিক ও বেআইনী। ঘটনায় জড়িতরা যে দলেরই হোক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মো. হাসান মীর জানান, আসাদ ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে নেই। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার কোনো বিষয়ে ছাত্রলীগ দায়িত্ব নেবে না।

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম জানান, ঘটনা তাকে কেউ জানায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে বলা হয়েছে।