ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:১৩ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১ নিহত ও ৫ গুলিবিদ্ধের পরে শাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা

আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের অঞ্জন-উত্তম ও পার্থ-সবুজ গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে একজন নিহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১১ জন। এ ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিহত সুমন চন্দ্র দাস সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র। সে দিরাই উপজেলার সামারচর গ্রামের পূজা বাড়ির হিরাধনের ছেলে। সংঘর্ষ চলাকালে সে অঞ্জন-উত্তম গ্রুপের হয়ে শাবিতে গিয়েছিল। গুলিবিদ্ধ হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। গুলিবিদ্ধ অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রী শেখর রায়, শাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র অঞ্জন রায় এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী খলিলুর রহমান।  গুলিবিদ্ধ দুইজনের নাম জানা যায়নি। আহত হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী হুসাইন মোহাম্মদ সাগর ও আবদুস সালাম মঞ্জু। নজরুল, সেলিম, আহাদ ও মিজান প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষে জালালাবাদ থানা কনস্টেবল ইব্রাহীম আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অঞ্জন রায় ও সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য উত্তম কুমার দাস গ্রুপের সাথে শাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ ও যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সবুজ গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উভয় গ্রুপর নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকলে উত্তেজনা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হকের সমর্থক নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও একাডেমিক ভবন এবং শাহপরাণ হলে ভাংচুর চালায়।  এক পর্যায়ে শাহপরাণ, বঙ্গবন্ধু ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি অঞ্জন রায় ও মিসবাহ রেদওয়ানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপ আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটার ব্যবহার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন চন্দ্র দাস নামের এক বহিরাগতকর্মী মারা যান।
সংঘর্ষকালে উভয় গ্রুপের পক্ষ নিয়ে বহিরাগত ক্যাডাররা অংশ নেয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে প্রক্টর হিমান্দ্রী শেখর রায় আহত হন বলে জানা গেছে।
দুপুর সোয়া একটায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছেলেদের আজ বিকেল চারটা এবং মেয়েদেরকে আগামীকাল সকাল নয়টার মধ্যে হল ছাড়তে বলা হয়েছে।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন