Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৪৪ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত সোহেল ও মুনির হোসেন। ছবি: যুগান্তরের সৌজন্যে

চেয়ারম্যান হত্যার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোহেল ও তার সহযোগী মুনির পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। ভাদসা ইউনিয়নের গোপালপুর-কোঁচকুড়ি সড়কে সোমবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সদর থানার ওসি ফরিদ হোসেন, এএসআই মশিউর রহমান ও কনস্টেবল মোস্তাফিজ আহত হয়েছেন। তাদের জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও দুইটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।

জয়পুরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) অশোক কুমার পাল গণমাধ্যমকে জানান, ভাদসা ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান একে আজাদ হত্যা মামলার আসামিরা তার গ্রামের বাড়ি কোঁচকুড়ি গ্রামে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন খবর পেয়ে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন তার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সেখানে যান। তারা গোপালপুর বাজার পার হয়ে কোঁচকুড়ি সড়কে ওঠা মাত্র টের পেয়ে আসামিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয়ের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়।

খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামবাসীরা লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে গোপালপুর-কোঁচকুড়ি সড়কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপে গত ৩১ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়পুরহাটের ভাদসা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। গত ২৯ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথও গ্রহণ করেন। কিন্তু গত ৪ জুন বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে মারাত্মক জখম করা হয়। পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জুন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই এনামুল হক যুবলীগ নেতা মুন্না পারভেজ ও তার ছয় সহযোগীর নামসহ অজ্ঞাত সাতজনকে আসামি করে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার গোপালপুর বাজার মাঠে নিহত চেয়ারম্যান আজাদের নামাজে জানাযা শেষে তাকে গ্রামের বাড়ি কোঁচকুড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।