ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:০৯ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ফাইল ফটো

‘চিকিৎসার অভাবে খালেদার কিছু হলে দায় সরকারের’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের থেকে অবনতি ঘটেছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারালাইজড হওয়ার আশঙ্কা করছি, যতটুকু জানতে পেয়েছি বেগম খালেদা জিয়া এখন সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারছেন না। বিনা চিকিৎসায় তার কিছু হলে দায় সরকারকে নিতে হবে।

রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

যেকোনো সময় খালেদা জিয়ার প্যারালাইজড হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার ঘাড়ের ব্যথা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, বাম হাতের আঙুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যথা করছে। এ কারণে হাত দিয়ে তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না। কোমড়ের ব্যথা বাম পায়ের তলা পর্যন্ত ছড়িয়েছে। এটা খুবই মারাত্মক।

ফখরুল বলেন, ঈদের দিন কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনরা দেখা করেছেন। তার শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক নাজুক। তিনি একা হাঁটতে পারছেন না। ব্যক্তিগত কাজকর্ম করার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে। যে চোখে অপারেশন হয়েছে তা অারো লাল হচ্ছে।

আজকের মধ্যেই খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছিলেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ইউনাইটেড হাসাপাতালের প্রতি খালেদা জিয়ার আস্থা রয়েছে। অন্য জায়গায় তার আস্থা নেই। তিনি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিবেন না। তাকে রাজনৈতিক কারণে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে রাজনৈতিকসুলভ আচরণ করা হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া জনগণের সম্পদ, জনগণের নেত্রী। তার জীবনের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করবো। জনগণই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো, গণতন্ত্রকেও মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।