ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৩৬ ঢাকা, শুক্রবার  ২০শে জুলাই ২০১৮ ইং

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ

‘চলতি মাসেই ইন্দোনেশিয়ার সাথে সমঝোতা স্বাক্ষর’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে উভয় দেশের মধ্যে প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে জয়েন্ট মিনিস্ট্রিয়াল স্টেটমেন্ট এ মাসেই স্বাক্ষর করা হবে। এ মাসের শেষে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরের সময় উভয় দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর মধ্যে এ জয়েন্ট মিনিস্ট্রিয়াল স্টেটমেন্ট স্বাক্ষর হবে।

আজ ২২ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিসেস রিনা সোয়েমারনোর সাথে মতবিনিময়ের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

এ সময় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি-২) তপন কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

তোফায়েল আহমদ বলেন, ইন্দোনেশিয়ার উচ্চ শুল্ক হারের কারণে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরী পোশাক রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে।

বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক দেশ সফরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীগণ সেক্টর চিহ্নিত করে বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে। মন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এলডিসি ভুক্ত দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় পণ্য রপ্তানিতে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা পাবার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু বাংলাদেশকে এ বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না। পণ্য রপ্তানিতে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা প্রদানের জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রু। বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও উচ্চ শুল্ক হারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক জটিলতার কারনে প্রত্যাশিত বাণিজ্য হচ্ছে না।

তিনি বলেন, গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ মাত্র ৪৬.৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ১১০৭ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হলে শুল্ক হার কমানোসহ বাণিজ্য জটিলতা দূর করে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিম্নমধ্য আয়ের দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল (ডেভলপিং) দেশের কাতারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করতে সকল শর্ত বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পূরণ করেছে। ডেভলপিং কান্ট্রিতে পরিনত হতে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়, তা বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশের ৭২ দশমিক ৯ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে।

বিশ্বের ইকোনমিক ও সোস্যাল কাউন্সিল উল্লিখিত তিনটি বিষয় বিবেচনা করে কোন দেশকে নিম্নমধ্য আয়ের দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল (ডেভলপিং) দেশে পরিণত হবার ঘোষণা দেয়। আগামী মার্চ মাসে এ কান্সিলের মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে যাচ্ছে। দেশের ৮৯ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে, শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে বেশি সময় প্রয়োজন হবে না।