Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৩৯ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২২শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

চট্টগ্রাম আমার দ্বিতীয় বাড়ি, বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ চট্টগ্রামে দেশের প্রথম বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বাণিজ্য কেন্দ্র নির্মাণের ফলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সকল খাতে দেশ এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ সকল খাতে এগিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আমদানি ও রফতানি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নগরীর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র (ডব্লিউটিসি) চত্বরে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং সাবেক সভাপতি আবদুল লতিফ এমপি বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা বলেন, চট্টগ্রামের জনগণ তাদের এই নগরীতে দেশের প্রথম বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র পেয়ে অবশ্যই গর্বিত। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য বৃহৎ নগরীতে নির্মিত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের আলোকেই এটি নির্মীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামসহ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এ ধরনের কেন্দ্র নির্মিত হওয়ায় চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সাথে আমাদের পৃথক সম্পর্ক রয়েছে। আপনারা বলতে পারেন… ছোট বেলা থেকে এটি আমার দ্বিতীয় বাড়ি। এ সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অতিথিরা করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
চট্টগ্রামে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র নির্মাণের পটভূমি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে মেয়াদে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। আজ বহু বছর পর এই কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
শেখ হাসিনা সকল খাতে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে যথাসময়ে কর পরিশোধ করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি যথাসময়ে কর পরিশোধ করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যাতে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। যাতে আমাদের উন্নয়ন আমরা নিজেরাই করতে পারি এবং আমাদের ভিক্ষা করার কোনো প্রয়োজন না হয়।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবসায়ীদেরকে যথাসময়ে কর দিতে হবে যাতে আমরা কাজ করতে পারি। আপনারা যে কর দিবেন তা দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে এবং আমার লক্ষ্য হচ্ছে- দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করা।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের সামনে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা একটি চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশকে খাটো করার প্রয়াস ছিল।
তিনি বলেন, আরেকটি বড় কথা হচ্ছে আমাকে, আমার পরিবারের সদস্যদেরকে এবং বাংলাদেশকে টার্গেট করা হয়েছিল। আমরা সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলাম এবং বিজয়ী হয়েছি। আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থে মেগা প্রকল্পে কাজ শুরু করতে সক্ষম হয়েছি।
শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে যেসব পণ্যের অনেক চাহিদা রয়েছে সেগুলোর জন্য বিদেশে বাজার অনুসন্ধান এবং বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার (বিসিআইএম) ইকোনোমিক করিডোরসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আপনাদের জন্য অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছি। তাই আমরা চাই যে, আপনারা বিভিন্ন দেশের চাহিদা বিবেচনা করে নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশে সেসব পণ্য উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পণ্যের উৎপাদনশীলতা ও মান বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও আকর্ষণ সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে পণ্য বহুমুখীকরণের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।