Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:১২ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

বাংলাদেশে ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানের ইঞ্জিন বিকল, প্রাণে বেঁচেছে ২৪১ যাত্রী

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

ইজিপ্ট এয়ারলাইন্স থেকে ভাড়ায় আনা দুটি উড়োজাহাজের একটি বৃহস্পতিবার রাতে আকাশে ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। এ সময় ফ্লাইটে ২৪১ জন যাত্রী ছিলেন। রাত ১২টা ৩৩ মিনিটে বিজি-০৪৭ ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম থেকে দুবাইয়ের পথে উড্ডয়নের ১৮ মিনিটের মাথায় হঠাৎ বিকট শব্দে উড়োজাহাজের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। ইঞ্জিন গ্যাস টেম্পারেচার (ইজিটি) অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এ সময় উড়োজাহাজটি কাঁপতে শুরু করে। অন্য ইঞ্জিনটিতেও সমস্যা দেখা দেয়। এয়ারক্রাফটের বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এক পর্যায়ে বিমানের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম ও কো-পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ দ্রুত ওই ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি শাটডাউন করে দেন। কার্যত তাদের দূরদর্শিতায় দ্বিতীয় ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করে দ্রুত ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এতে প্রাণে বেঁচে যান ২৪১ যাত্রীসহ বিমানের পাইলট কেবিন ক্রুরা। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি হয়নি।
দুবাইগামী যাত্রী চট্টগ্রামের নাজমুল হাসান জানান, ফ্লাইট টেকঅফ করার ৭-৮ মিনিট পর থেকে হঠাৎ উড়োজাহাজের মধ্যে দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয়। এ সময় ফ্লাইটকর্মীরা এয়ারকন্ডিশনে ঠাণ্ডার মাত্রা বাড়িয়ে দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর কিছুক্ষণ পরই উড়োজাহাজটি কাঁপতে শুরু করে। মনে হচ্ছিল বারবার হোঁচট খাচ্ছে। নাজমুল আরও জানান, কেবিন ক্রুদের দৌড়াদৌড়ি দেখে যাত্রীরা ভয় পেয়ে যান। এ সময় অনেকে দাঁড়িয়ে যান। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে কেবিন ক্রুদেরও উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু তারা বারবার যাত্রীদের সিট বেল্ট বেঁধে আসনে বসে থাকার অনুরোধ জানান। অস্বস্তির কারণে শিশুযাত্রীদের কান্নাকাটি করতে দেখেছেন। এক পর্যায়ে পাইলট ঘোষণা দেন কিছুক্ষণের মধ্যে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছেন। এ সময় অনেক যাত্রীকে দোয়া-দরুদ পড়তে শোনা গেছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রায় ৩ ঘণ্টা যাত্রীদের ইমিগ্রেশন এলাকায় বসিয়ে রাখা হয়। এ অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে অপর একটি এয়ারক্রাফট দিয়ে যাত্রীদের মধ্য থেকে ২৩৭ জনকে দুবাই পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪ জন যাত্রী দুবাইগামী কোনো ফ্লাইটে উঠতে পারেননি। তাদের উত্তরায় একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। বিমানের জেনারেল ম্যানেজার খান মোশাররফ হোসেন বলেন, যে ফ্লাইটটি রোম যাওয়ার কথা ছিল সেটি বাতিল করে ওই ফ্লাইটেই আটকেপড়া যাত্রীদের দুবাই পাঠানো হয়েছে। অবশ্য এ কারণে কিছু সিডিউল বিঘ্ন ঘটেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ককপিট ক্রু জানান, উড়ন্ত অবস্থায় যদি ওই ইঞ্জিনটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করা না হতো তাহলে উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যেত। সেক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা ছিল।