Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৫৫ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘চক্রান্তকারী দুই সাংবাদিকের প্রতি সহানুভূতিশীলদের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সাংবাদিক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের’ গ্রেফতারে যারা ব্যথা পেয়েছেন এবং সমালোচনা করছেন তাদের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তিরা অপরাধের কর্মকান্ড থেকে রেহাই পেতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা প্রচেষ্টার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কয়েকজন বিএনপি নেতার জড়িত থাকার ব্যাপারে এফবিআই রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা তাদের শাসনামলে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন এবং এসব অর্থ দিয়ে এখন তারা আওয়ামী লীগের ক্ষতি করার জন্য এফবিআই কর্মকর্তাদেরকে ভাড়া করছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সরকার সবসময় কোন অন্যায় দেখলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আমরা কখনো কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনা এবং আমরা ভবিষ্যতেও কখনো তা করবো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি বাড়িতে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেয়া এবং ন্যায়, জনগণের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

pm226

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন,

‘অপহরণ ও হত্যার মতো একটি জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে যখন এদের গ্রেফতার করা হয় তখন কিভাবে মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলা হয়?’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না তারা কি ধরনের সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। তারা গ্রেফতারের সমালোচনা করেছেন, কিন্তু এফবিআই এদের মুখোশ উন্মোচন করা সত্ত্বেও এসব সাংবাদিকের এতো বড় চক্রান্ত সম্পর্কে তারা কিছুই বলেননি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বিদেশী রাষ্ট্রে ও আদালতে এ ধরনের চক্রান্তে তাদের নাম আসার পর এসব অভিযুক্তদের লজ্জা পাওয়া উচিত। এদেরকে আইনের আওতায় আনায় সরকারের সমালোচনার পরিবর্তে চক্রান্তকারীদের নিন্দা করা উচিত ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি তারা চক্রান্তকারীদের চক্রান্তকারী হিসেবে বিবেচনা করতে রাজি নন। তারা এ ভয়ঙ্কর চক্রান্তের জন্য তাদের বিচারেরও পক্ষপাতি নন।’

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালনে দু’দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার (বর্তমানে মেহেরপুর) মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। এ উপলক্ষে দিবসটি পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধীকে ধরায় এখন যেমন সমালোচনা হচ্ছে ঠিক একই কাজ হয়েছিল ৭৫ সালে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়। সেই মানবাধিকার লংঘনের পর ২১ বছর আমরা ভোগান্তির শিকার হয়েছি। এখনো তারা আমাদের সমালোচনা করছে। আমাদের বিরুদ্ধে জঘন্য চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর মানবাধিকারের কথা বলা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তাদের তদন্তে এই চক্রান্তকারীদের নাম পেয়েছে। তিনি এই দুই সাংবাদিককে গ্রেফতারের জন্য তাঁর সরকারকে অভিযুক্ত করার পরিবর্তে এফবিআই’র সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও মতিয়া চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম অংশ নেন।

এছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট কামরুল ইসলাম, সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি একেএম রহমতুল্লা এমপি ও আবুল হাসনাত, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং শাহ আলমও এ আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।