ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:১৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ঘূর্ণিঝড় 'ভারদাহ'
ফাইল ফটো

ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র ধেয়ে আসার সংবাদে উপকূলজুড়ে আতংক

বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। এটি উপকূল ঘেঁষে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ চট্টগ্রাম অতিক্রম করতে পারে। এতে উপকূলজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।

‘রোয়ানু’র আঘাতে সম্ভব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতিমধ্যে সারা দেশে নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। বন্দর চ্যানেলের লাইটারেজ জাহাজগুলোকে শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৭ নং বিপদ সংকেত, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ এবং খুলনা ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।

ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রামে শহর রক্ষা বাঁধ তথা পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ। বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেষে পতেঙ্গা এলাকায় মাটি দিয়ে নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধটি সংস্কারের অভাবে এখন চরম ঝুঁকিতে।

ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ যে কোনো সময়ে আঘাত আনতে পারে আবহাওয়া অফিসের এমন তথ্যে কাঁপন ধরেছে উপকূলীয় বাসিন্দাদের বুকে।

শুক্রবার সকাল থেকে পতেঙ্গা উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের জানমাল এবং গৃহপালিত পশু-পাখি রক্ষায় শুরু করেছে নানা প্রস্তুতি। অন্যদিকে বিকাল থেকে বেড়ি বাঁধের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য প্রস্তুতি নেই। ১৯৯১ সালের মত আরেকটি ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি আগের চেয়েও বাড়বে বলেও তাদের আশংকা।

জলোচ্ছ্বাস কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধটি ভেঙে গেলে বাঁধের পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, ইস্টার্ন রিফাইনারি, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি- পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপু, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থাপনা, বেসরকারি আইসিডি, ইস্টার্ন কেবলস ও এলপি গ্যাস স্থাপনাসহ সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে পতেঙ্গা এবং আশপাশের দেড় লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

পতেঙ্গা নেভাল থেকে সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পতেঙ্গা শহর রক্ষা বাঁধের দায়িত্ব এক সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাতে থাকলেও এখন রয়েছে সিডিএর হাতে। সিডিএ শহর রক্ষা বাঁধের ওপর নির্মাণ করছে সিটি আউটার রিং রোড।

ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে বরিশালে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ বিরাজ করছে। শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা করেছে এবং দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য বরিশাল অঞ্চলে ৬ হাজার ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়া বরিশাল অঞ্চলে ৪২৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বরিশালের অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোতে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আভ্যন্তরীণ রুটে ছোট লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের নিচে সকল ধরনের ছোট লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র মোকাবেলায় খুলনার উপকূলজুড়ে ব্যাপক সতর্কাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মংলা বন্দরে অবস্থানরত ছোট-বড় সকল নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। মংলা বন্দরে মালামাল উঠানামা শুক্রবার দুপুরের পর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে খুলনা জেলাসহ আশপাশের এলাকা ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দুপুরের পর থেকে একটানা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়।

সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুল হক খান। সভায় নয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পদস্থ কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দুর্যোগ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখার কথা বলা হয়েছে।

মংলা বন্দরে অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সতর্কতাবস্থায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মনিটরিংয়ের জন্য মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বাগেরহাটের মংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন।

সতর্কতা সংকেত বড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলাগুলোর সকল আশ্রয়কেন্দ্র ও বহুতল ভবন বিশষ্টি সরকারে-বেসরকারি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকাজুড়ে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের তীব্রতাও বেড়ে চলেছে।