ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:২৮ ঢাকা, বুধবার  ২৩শে মে ২০১৮ ইং

ঘুষ কেলেঙ্কারির নায়ক সেই উপ পুলিশ কমিশনার জিল্লুর

পদোন্নতি প্রশ্নে ঘুষ বানিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার সাময়িক বরখাস্ত করার পর তাকে বরিশাল থেকে প্রত্যাহার করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে পদোন্নতি প্রশ্নে ঘুষ বানিজ্যের ঘটনায় এখানে মোট বরখাস্তের সংখ্যা দাড়ালো ১১ তে।
এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আভাস মিলেছে পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে। বিষয়টি নিয়ে সিকিউরিটি সেলে চলমান তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, তিনি ছাড়াও এখানে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদ মর্যাদার প্রায় সবাই জানতেন বিষয়টি। তবে তাদের কেউই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেননি। এমনকি পুলিশ কমিশনারকে পর্যন্ত জানাননি কিছুই। জানলে বাঁধা দেবেন অথবা ভিন্ন কোন ব্যবস্থা নেবেন ভেবেই হয়তো তাকে রাখা হয় অন্ধকারে।
প্রায় আড়াই মাস ধরে বরিশালে চলা এই প্রক্রিয়ায় কনষ্টেবলদের কাছ থেকে উঠানো হয় ৭৭ লাখ টাকা। যার মধ্যে ১৬ লাখ টাকা পাওয়া গেছে ৩ জনের যৌথ নামে বরিশালে করা একটি ব্যাংক একাউন্টে। বাকি টাকার ৬০ লাখ উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমানের কাছে জমা আছে বলে ঢাকার সিকিউরিটি সেলকে জানিয়েছে ইতিপূর্বে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১০ জনের ৪ জন। টাকা উত্তোলনের তালিকাসহ ব্যাংকে করা একাউন্টের কাগজ-পত্রও জমা দেয়া হয়েছে সিকিউরিটি সেলে। সবমিলিয়ে পদোন্নতি পাইয়ে দেয়ার নামে বরিশালে পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তার এই কোটি টাকার বানিজ্য এবং ঘটনা ধরা পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১১ জন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নিয়ে দেশের পুলিশ প্রশাসনে এখন চলছে তোলপাড়।
অভিযুক্তদের কয়েকজন ঢাকায় জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে সবকিছু। যাবতীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর পুলিশ হেড কোর্য়াটারের নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ১ উপ-কমিশনা, ২ এএসআই ১ নায়েক এবং ৭ কনস্টেবলকে। এই বিষয়ক তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের পুলিশ কমিশনার জানান, গত ১১ জুন ঢাকায় আইন শৃংখলা কমিটির মিটিং-এ থাকাবস্থায় এভাবে বড় অংকের টাকা উত্তোলনের ঘটনাটি প্রথম জানার পর-পরই এব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ১৩ জুন ৩ সদস্যের একটি কমিটি করে তদন্ত-ও শুরু করা হয়। যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে তাদেরকে টাকা ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।