ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২৫ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু

ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে শিল্প মন্ত্রণালয় : শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ এর ঘোষণা বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে হাইটেক শিল্পের চেয়ে শ্রমঘন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।

শিল্পমন্ত্রী আজ বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) টুল ইনস্টিটিউট ভবনের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিটাক প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিটাকের মহাপরিচালক ড. দিলীপ কুমার শর্মা এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাস, প্রকল্প পরিচালক ড. সৈয়দ মোঃ ইহসানুল করিম বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ম্যানুফ্যাকচারিং হাল্কা প্রকৌশল শিল্প প্রসারের মাধ্যমে দেশে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাল্কা প্রকৌশল শিল্পের জন্য ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি পরিকল্পিত শিল্পনগরি গড়ে তোলা হচ্ছে। ক্ষতিকর কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও মুদ্রণ শিল্পের জন্যও পৃথক শিল্পনগরি গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে দেশে বিপুল পরিমাণে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল প্রয়োজন। শিল্পোন্নত দেশগুলোর শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী যেখানে কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এর পরিমাণ এখনও মাত্র ১০ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি লোক বিদেশে চাকরি করলেও দক্ষতার অভাবে তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশব্যাপী যে একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলো সচল রাখতে ব্যাপকহারে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুতারোপ করেন আমু।

আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ এর ঘোষণা বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। বিটাকের মাধ্যমে বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের গুরুত্ব দিয়ে হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ হাজার ২৩২ জন পুরুষ এবং ৮ হাজার ১০০ জন মহিলাসহ সর্বমোট ১৯ হাজার ৩৩২ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৭২ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৩৩৮ জন মহিলাসহ সর্বমোট ৬ হাজার ৬১০ জন প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হবার সাথে সাথেই চাকরি পেয়েছেন। বাকীদের অধিকাংশই পরবর্তীতে বিভিন্ন কল-কারখানায় নিয়োগ পেয়েছেন এবং কেউ কেউ নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। টুল ইনস্টিটিউট চালু হলে, দেশেই বিশ্বমানের হাল্কা প্রকৌশল পণ্য ও খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিটাকের টুল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি সমাপ্ত হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ৮তলা ভবন নির্মাণ, কম্পিউটার নিউমেরিক্যাল কন্ট্রোল (সিএনসি) মেশিন স্থাপন এবং এসএমইখাতের জন্য টেস্টিং সুবিধাসহ কমন ফ্যাসিলিটি গড়ে তোলা হবে। নতুন এ প্রকল্পে দেশিয় কারিগরদের সিএনসি মেশিন পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন, হাল্কা প্রকৌশল পণ্যের ডিজাইন ও মেইন্টেন্যান্স সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করা হবে। এর ফলে দেশে আধুনিক, টেকসই ও উৎপাদনমুখী হাল্কা প্রকৌশল ও এসএমই শিল্পখাত গড়ে ওঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।