ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩২ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা
একুশে আগস্টের সমাবেশে শেখ হাসিনা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, এ সময় ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলা হলে নেতারা তাকে আগলে রাখে। এতে ২৪ জন নিহত হলেও আহত হন অসংখ্য নেতাকর্মী।

গ্রেনেড হামলা মামলা: তারেকের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলায় পলাতক আসামী তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। আজ মামলার পলাতক আসামী বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এ কে এম আখতার হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। যুক্তিতর্কে তিনি বলেন, মামলার এজাহার প্রথম অভিযোগপত্র, বিভিন্ন জিডিতে আসামী তারেক রহমানের নাম ছিলো না। তিনি বলেন, মামলাটির বিচার চলাকালীন ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার পুনঃতদন্তের আদেশ হয়। পুনঃতদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল কাহ্্হার আখন্দের দাখিল করা সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেক রহমানকে সম্পৃক্ত করা হয়। যেখানে বলা হয়, ২১ আগস্ট হামলাকারীদের ঘটনা বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারেক রহমান।

আইনজীবী যুক্তিতর্কে দাবি করেন, ওই সময় তারেক রহমান বিএনপি এবং চার দলীয় জোট সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ ছিলেন না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তারেক রহমানের পক্ষে যুক্তিতর্ক অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম কাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তিতর্কের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত রাষ্ট্রপক্ষ তার সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারেক রহমান তার তৎকালীন কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবনে ষড়যন্ত্র বৈঠক করেছেন তাও প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি। ওই বৈঠকের আলোকে হামলাকারীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ মামলায় কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়নি। অপরাধের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই ঘটনায় জড়িতরা মামলার আসামী হয়েছেন বলে জানান সৈয়দ রেজাউর রহমান।

এর আগে আজ যুক্তিতর্ক পেশ করার ৩৪তম দিনে আসামী আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাব্বিরের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন তার আইনজীবী মাঈনুদ্দিন মিয়া। এ আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তার খালাসের আর্জি পেশ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল জানান, আসামী আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাবি¦র রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত।

এর আগে চার কার্যদিবসে পলাতক আসামী মাওলানা লিটন ওরফে জুবায়েরের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আবদুল বাতেন, পলাতক আসামী মুফতি সফিকুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী মাজহারুল কুদ্দুস, পলাতক আসামী মো. ইকবালের পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, পলাতক আসামী মাওলানা তাজউদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী আশরাফুল আলম, পলাতক আসামী জাহাঙ্গির আলম বদরের পক্ষে আইনজীবী সাইদুল হক, রাতুল আহমদ বাবুর পক্ষে এডভোকেট মশিউর রহমান, মহিবুল মোত্তাকিনের পক্ষে এডভোকেট হালিমা আক্তার, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের পক্ষে আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার, পলাতক মো, খলিলের পক্ষে এডভোকেট খলিলুর রহমান খান, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে এডভোকেট আশরাফ-উল আলম, বিএনপি নেতা পলাতক হারিছ চৌধুরীর পক্ষে এডভোকেট আবু তৈয়ব ও পলাতক আনিসুল মোরসালিনের পক্ষে এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন ,আসামী মুন্সি মুহিবুল্লাহ ওরফে অভির পক্ষে তার আইনজীবী সাইফুর রশিদ সবুজ ও পলাতক আসামী মুফতি আবদুল হাইয়ের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল কালাম।

আসামীপক্ষের এ আইনজীবীরা তাদের মোয়াক্কেলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আনীত অভিযোগ প্রমান করতে পারেনি দাবী করে আসামীদের খালাসের আর্জি পেশ করেন।

গত ১ জানুয়ারি মামলার আসামীদের আইন অনুযায়ি সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করে। মামলার সকল আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের দেয়া সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান কৌঁসুলি। তিনি আদালতে বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার প্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আইনের বিধানের আলোকে আসামীদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজা প্রদানের আদেশ প্রার্থনা করছি।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান কোঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মো. আবু আব্দুলাহ ভূঞা, আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল, এডভোকেট ফারহানা রেজা, এডভোকেট মো. আমিনুর রহমান, এডভোকেট আবুল হাসনাত, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ।

অপরদিকে আসামিপক্ষে আবদুস সোবহান তরফদারসহ বিভিন্ন আইনজীবী আদালতে আজ উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছেন।

তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক।

এ ছাড়া ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২২ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। -বাসস

শীর্ষ মিডিয়া