ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৫৪ ঢাকা, শুক্রবার  ১৯শে জানুয়ারি ২০১৮ ইং

‘গ্রিসে পুলিশ ও অভিবাসীদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ’

গ্রিসের লেসবোস দ্বীপে সোমবার রাতে পুলিশ ও অভিবাসীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে উঠেছে। এদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স আরো হাজার হাজার অভিবাসী নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।
কোস্টগার্ড ও দাঙ্গা পুলিশ লাঠি নিয়ে লেসবোসে অবস্থানরত প্রায় ২৫০০ অভিবাসীকে নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। অভিবাসীরা এথেন্সগামী একটি সরকারি জাহাজে ওঠার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদেরকে ‘পিছু হটার’ নির্দেশ দেয়।
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় যুদ্ধবিগ্রহ ও দারিদ্রের কারণে পালিয়ে আসা জন¯্রােত সামলাতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ নাজেহাল হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার অভিবাসী ইউরোপে যাওয়ার জন্য বলকান ও ভূমধ্যসাগরকে রুট হিসেবে বিবেচনা করছে।
লেসবোসে ১৫ হাজারেরও বেশি বিশেষত সিরীয় অভিবাসী আশ্রয় নিয়েছে। পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী তুরস্কের উপকূল থেকে আসা শরণার্থীদের ঢল নামছে গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে। গ্রিসের যে কয়টি দ্বীপ এ ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে তার মধ্যে লেসবোস অন্যমত।
প্রকৌশল বিষয়ের ছাত্র আলাদীন বলেন, ‘আমি এখানে আট নয় দিন ধরে আছি। হায় অ আল্লাহ, আমি স্মরণ করতে পারছি না।’ আলাদীন জার্মানিতে তার ভাইয়ের সঙ্গে মিলিত হতে চায়।
তিনি বলেন, ‘অনেকে এখানে ১৪-১৫ দিন ধরে রয়েছেন। সরকার আমলেই নিচ্ছে না।’
লেসবোসের উপকূলে ৬১ অভিবাসীকে উদ্ধারে গ্রিসের একটি যাত্রীবাহী ফেরি থেকে লাইফবোট দেয়া হয়। এর কয়েক ঘন্টা পর জুনিয়র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ইয়ানিস মৌজালাস বলেন, মাইটিলেনে বর্তমানে ১৫ থেকে ১৭ হাজার শরণার্থী রয়েছে। গোটা পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ।
হাঙ্গেরিতে একটি শরণার্থী কেন্দ্রের কাছে পুলিশী বেষ্টনি ভেঙে অনেক অভিবাসী সোমবার বুদাপেস্টের দিকে অগ্রসর হয়েছে। ডেনমার্কের পুলিশ অভিবাসীবাহী একটি গাড়ির বহর আটকে দিয়েছে। অভিবাসীরা সুইডেনের সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। ফ্রান্স আরো ২৪ হাজার অভিবাসন-প্রত্যাশীকে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আরো বেশি কিছু করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্রিটেন আগামী পাঁচ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর সীমান্তের কাছে স্থাপিত শিবিরগুলো থেকে ২০ হাজার সিরীয় শরণার্থী নেবে।
জার্মানিতে গত সপ্তাহে ২০ হাজার শরণার্থী গিয়েছে। সোমবার দেশটিতে আরো ১০ হাজার শরণার্থী ঢুকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।