Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৫৯ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

গ্রিসে ‘না’ ভোটের পক্ষে গণরায় , ভোটাররা সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কঠোর শর্ত সম্বলিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে গ্রিসের জনগণ। রোববারের গণভোটে ‘না’ ভোট সুস্পষ্টভাবে জয়ী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপরাস বলেছেন, গণভোটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কঠোর শর্ত প্রত্যাখ্যান করে গ্রিসের জনগণ ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে। এতে ‘না’ ভোট পড়েছে ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ভোটের ফলাফল শোনার পর না ভোটের হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে উৎসব করেন।
তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা হুঁশিয়ার করেছেন, না ভোট জয়ী হওয়ার অর্থ গ্রিসের ইউরোজোন থেকে বেরিয়ে যাওয়া। সোমবার এশিয়ার পুঁজি বাজারে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
ঋণদাতাদের কঠোর শর্ত মেনে নিতে নারাজ গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপরাস গত সপ্তাহে ৫ জুলাইয়ের গণভোটের ঘোষণা দেন। ঋণদাতাদের কর বাড়ানো, পেনশনে কাটছাঁট ও কৃচ্ছ্রসাধনের একগুচ্ছ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে আসছিল সিপরাস সরকার। এরই মধ্যে গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কিস্তি ১৫০ কোটি ইউরো পরিশোধের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে গ্রিস।
গ্রিসের অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারোফাকিস পদত্যাগ করেছেন। আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে তার প্রায়ই বাকবিতন্ডা হত।
প্রধানমন্ত্রী সিপরাস বলেন, ভোটের ফলাফল আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে তাকে অনেক সহায়তা করবে।
গ্রিসের ক্ষমতাসীন সিরিজা পার্টি না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালায়। দলটির মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কঠোর শর্ত অবমাননাকর।
সিপরাহ রোববার রাতে বলেন, গ্রিসবাসী প্রমাণ করেছে তারা গণতন্ত্র ব্লাকমেইল হতে দিবে না। টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, গ্রিসের জনগণ সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গণভোটের ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পানোস কামেনোস বলেছেন, জনগণ প্রমাণ করেছে, ভয় দেখিয়ে কারও স্বার্থ হাসিলের চেষ্টার কাছে তারা নতি স্বীকার করেনি। গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা সব সময় হুমকি দিয়ে এসেছেন, গ্রিস যদি ইউরোজোনে থাকতে চায়, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই। কিন্তু গ্রিসের ভোটাররা এই হুমকিকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। ইউরোজোন থেকে গ্রিসকে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি তারা পরোয়া করেনি। ইউরোপীয় নেতাদের মুখের ওপর ‘না’ বলে দিয়েছে।
তবে কয়েকজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা ইতোমধ্যে হুঁশিয়ার করেছেন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা না ভোটের অর্থ এই মনে করে যে গ্রিস অধিকতর আলোচনা প্রত্যাখান করেছে।
ভোটের পর গ্রিসের সঙ্গে অধিকতর আলোচনার ব্যাপারে ইউরোপীয় নেতারা ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিয়েছেন।
গ্রিসের ডেপুটি চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেন, গ্রিসের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা কঠিন এবং সিপরাস গ্রিস ও ইউরোপের মধ্যে সেতু ভেঙে দিয়েছেন।
তবে ইতালি ও বেলজিয়ামের মন্ত্রীরা আরো আপসমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। বেলজিয়ামের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে পুনরায় আলোচনা করার দ্বার এখনো খোলা রয়েছে।
ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীদের গ্রুপের প্রধান জেরোয়েন ডিজসেলব্লোয়েম বলেন, গণভোটের ফলাফল গ্রিসের ভবিষ্যতের জন্য ‘খুবই দুঃখজনক’।
গ্রিসের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে আজ সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জার্মানির চ্যান্সেলর আঞ্জেলা মেরকেলের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ।
গণভোটের ফলের প্রেক্ষাপটে ইউরোজোনের নেতাদের নিয়ে কাল মঙ্গলবার একটি সম্মেলন করার অনুরোধ আসার পর তাতে তাৎক্ষণিক সায় দিয়েছেন ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন স্কালজ হুঁশিয়ার করেছেন, গ্রিস সরকার আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে অর্থবহ প্রস্তাব না দিলে ইউরোপ খুবই কঠিন ও নাটকীয় সময়ের মধ্যে প্রবেশ করবে।
ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিমো সোইনি তার দেশের একটি টেলিভিশনকে বলেছেন, ইউরোজোনে গ্রিসের ভাগ্য নির্ভর করছে ইউরোপীয় করদাতাদের ইচ্ছার ওপর। গণভোটের ফলাফলে পোল্যান্ডও হতাশ।