ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৫৮ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

গ্রিসের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত আইএমএফ এর কারনেই

অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যস্ত গ্রিসের রোগ সারাতে ‘কৃচ্ছ্রসাধন ওষুধ’ দিয়ে তাকে কংকাল বানিয়ে ফেলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ঋণ সহায়তার শর্তের নামে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে, সরকারি ব্যয় সংকোচন করে, বেকারত্ব বাড়িয়ে লেবুর মতো চিপে চিপে রস বের করেছে এথেন্সের। মুমূর্ষু গ্রিসের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
২০০১ সালের ১ জানুয়ারি ইউরোজোনে যোগ দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রথম শিকার হয় গ্রিস। ২০০৭-০৮ সালে যা বিস্ফোরণ আকারে উদ্ভাসিত হয়। অর্থনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধারে শিয়ালের ভূমিকায় এগিয়ে আসে ইউরোপীয় কমিশন, আইএমএফ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)। ঋণ সহায়তার সঙ্গে জুড়ে দেয় কঠিন সব শর্ত। এসব সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে আর ক্রমশ চাপে পড়েছে এথেন্স। ঋণের অস্ত্র ব্যবহার করে কৃচ্ছ সাধনে বাধ্য করেছে গ্রিস সরকারকে। এ কর্মসূচি সামরিক খাতে ব্যয় কমায় না, কিন্তু স্বাস্থ্য খাতের মতো জনকল্যাণমূলক সেবাগুলো কমিয়ে জনগণের জীবনযাত্রা আরও কঠিন করে তুলেছে। সংকট তাতে বেড়েছে। সেই সংকট থেকে উদ্ধারে আবারও ঋণ। আবার কঠিন শর্ত। বর্তমানেও দেশটিতে দেয়া ঋণ ফেরত চাচ্ছে না আইএমএফ। বরং আরও ঋণ দিতে আগ্রহী। কিন্তু সেই শর্তের বেড়াজালে আরও গভীর গর্তে পতিত হবে গ্রিস। ওই জাল থেকে আর বের হতে পারবে না। দেশটির বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপরাস তাই শর্ত মানতে নারাজ। সিদ্ধান্তের ভার দিয়েছেন জনগণের ওপর।
২০০৯ সালে জিডিপির বাজেটে ঘাটতি দেখা যায় জিডিপির শতকরা ১৩ ভাগ। ঋণ পেতে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো কৃচ্ছ সাধন কর্মসূচি নেয় গ্রিস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি বন্ধ করা হয়, বোনাস শতকরা ১০ ভাগ কমানো হয়, শ্রমিকদের ওভারটাইম কমানো হয়। ২০১০ সালে ১১০ কোটি ইউরো ঋণ দেয় তিন সংস্থা। তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অর্থনৈতিক সংস্কার এনে সংকট আরও বাড়ে। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ১৩০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দেয় তারা। এর সঙ্গে প্রাইভেট খাত থেকে আরও ১০৭ বিলিয়ন ইউরো ও সর্বশেষ ৭.২ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দেয়া হয়। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঋণের শর্তানুযায়ী কৃচ্ছ সাধন করে ২০১০-২০১৩ পর্যন্ত গ্রিকদের মাথাপিছু আয় কমেছে কমপক্ষে ৩০০০ ইউরো।
২০০৮-২০১৩ পর্যন্ত বেকারত্বের হার বেড়েছে ২৭.৫ শতাংশ। ২০১৩ সালে অনেক অস্থিরতা সংঘাতের পর সরকার পতন হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি অ্যালেক্সিস সিপরাসের নেতৃত্বে বামপন্থী জোট ক্ষমতায় আসে। ৩০ জুন ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে দেউলিয়া হয়েছে দেশটি। গত বৃহস্পতিবার আইএমএফ বলেছে, গ্রিসের অর্থনৈতিক বিশৃংখলা ঠেকাতে আগামী তিন বছরের জন্য ৫০ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন। কিন্তু দাতাদের শর্ত মেনে সেই সংকটের সমাধান হবে? আবার না মানলেও গ্রিস উঠে দাঁড়াবে কীভাবে? গভীর অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে শর্ত মানা না মানার ভোট দিয়েছেন গ্রিকরা।