Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৫৭ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ - ফাইল ফটো

গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে: প্রতিমন্ত্রী

বাসা-বাড়িতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হতে আরও ২-৩ দিন সময় লাগবে। আর শিল্প খাতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহে ৭-৮ মাস সময় লেগে যেতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মঙ্গলবার এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মঙ্গলবারের মধ্যে গ্যাস সংকটের সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু ওই ঘোষণা কোনো কাজে আসেনি।

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তীব্র গ্যাস সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সপ্তাহজুড়ে চলা গ্যাস সংকট নিয়ে রাজধানীবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নারায়ণগঞ্জের মতো ঢাকার মানুষও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারেন বলে আশংকা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সারা দিনেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাজধানীর অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে না। অনেকে মাটির চুলায় রান্না-বান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রামপুরার বাসিন্দা ফেরদৌসি জানান, এক সপ্তাহ ধরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার রান্নাঘরে চুলা জ্বলছে টিমটিম করে। রান্না করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করে অল্প-স্বল্প রান্না সেরে নিতে হচ্ছে। অনেক সময় রাত জেগে গ্যাসের চাপ বাড়লে রান্না করতে হচ্ছে।
রাজধানীর ইস্কাটন এলাকার বাসিন্দা মুনিরা খাতুন বলেন, মাস গেলে টাকা ঠিকই দিতে হবে। কিন্তু এখন ছেলে-মেয়ের জন্য রান্না পর্যন্ত করতে পারছি না। এভাবে চলা যায় না।
জানা গেছে, রাজধানীর রামপুরা, সিদ্ধেশ্বরী, বনশ্রী, বাড্ডা, তেজগাঁও, তেজকুনিপাড়া, মগবাজার, ইস্কাটন, নাখালপাড়া, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মালিবাগ, খিলগাঁও, কমলাপুর, গোলাপবাগ, গোপীবাগ, মানিকনগর, ওয়ারি, পুরান ঢাকাসহ বেশিরভাগ এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
গ্যাস-সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে অনেক সিএনজি স্টেশন। তেজগাঁও, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্প-কারখানার উৎপাদনও বিঘ্নিত হচ্ছে গ্যাসের চাপ ঠিক না থাকায়। দিনভর সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
রাজধানী ও এর আশপাশের আবাসিকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ করে থাকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।মতিঝিল, মিরপুর ও গুলশান- তিন অঞ্চলে কোম্পানির রয়েছে জরুরি তিনটি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।
এসব কেন্দ্রের টেকনিশিয়ানরা জানান, তাদের কাছে আবাসিক গ্যাস সংকটের বিষয়ে প্রতিদিন অসংখ্য অভিযোগ আসছে। প্রতিবার শীতকালে গ্যাসের সমস্যা থাকে, তবে, এবার সংকট একটু বেশি।
তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক (উৎপাদন) মীর মশিউর রহমান সমস্যার বিষয় স্বীকার করে বলেন, এক হাজার ৮০০ থেকে প্রায় দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সার্বোচ্চ এক হাজার সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
তিনি দাবি করেন, বিকেল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনগুলো যখন বন্ধ থাকে, স্থানীয় আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের সমস্যা হয় না। অন্য সময় সমস্যা হচ্ছে। তবে, দ্রুতই গ্যাসের সংকট কেটে যাবে বলেও জানান মীর মশিউর রহমান। যুগান্তর