ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:৪৫ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ফটো

গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম : ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত করার চক্রান্ত করছে। আজকে গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।’

রোববার সকালে খেলাফত মজলিশের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার রাষ্ট্রের সব স্তম্ভ বা পিলারগুলোকে শেষ করে ফেলেছে। কথাটা আমার একার না। শনিবার মাননীয় প্রধান বিচারপতিও বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো তারা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করছে। যেটাকে বলা হয়- কে কার থেকে বড় সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে।’

আশকোনার জঙ্গি অভিযান সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে (রোববার) পত্রিকায় একটা ছবি আছে, যে ছবি দেখে আমার সমস্ত অন্তর আত্মা কেঁপে উঠেছে। একটা চার বছরের শিশু গ্রেনেডে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছে। কেন? জঙ্গি আক্রমণ হয়েছে। মা জঙ্গি হচ্ছেন, বাবা জঙ্গি, জানি না সত্য কী, কী অবস্থা জানি না। কিন্তু চার বছরের শিশু এক নির্বাক শক্তিদৃষ্টি দিয়ে সে হাসপাতালে পড়ে আছে। এই অবস্থা চলছে দেশে এখন। এ থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, আমাদের ভবিষ্যতকে তৈরি করে আমাদের দেশকে একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।’

রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়া একটি প্রস্তাব দিয়েছেন যে, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া এই সংকট উত্তরণ করবার আর কোনো পথ নেই। আমরা গণতন্ত্র ও নির্বাচনে বিশ্বাস করি বলেই এই প্রস্তাব দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা শেষ হলে সরকারের শুভ বুদ্ধি উদয় হবে। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবেন। যারা একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাকে অবৈধভাবে কুক্ষিতগত করে রাখার জন্যে বিভিন্ন কলাকৌশল করে বিরোধী দলকে দমন করে, নির্মূল করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। আমাদেরকে এটা রুখে দিতে হবে। দেশে শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, অন্যান্য ধর্মের ওপরে এই সরকারের আমলে আঘাত আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।  শিক্ষাখাতে অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করেন ফখরুল।

রাজধানীর গুলিস্তানের হাজী বশির (মহানগর নাট্যমঞ্চ) মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের শরীক খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাধারণ পরিষদের ৯ম অধিবেশন হয়। ইতিমধ্যে আমির নির্বাচনের জন্য দলের নির্বাচন কমিশন আমীর পদের প্রার্থীর জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের গোপন ভোটে ৩ সদস্যের একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। এরা হলেন- মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, অধ্যক্ষ মাসউদ খান, মাওলানা সৈয়দ মুজিবুর রহমান।

খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মূর্ত্তজা, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম,মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের, হেফাজতে ইসলামীর নায়েবে আমির নুর হোসাইন কাশেমী, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন,  ইসলামিক পার্টির আবদুল কাশেম প্রমুখ।