ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৫২ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আদালত
হাইকোর্ট

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির রায় স্থগিত

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ২ হাজার ৩৬৭ জন গেরিলাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হাইকোর্টের রায় ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি হাছান ফয়েজ সিদ্দিকি আজ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

এর আগে হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ২ হাজার ৩৬৭ জন গেরিলাকে মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা প্রকাশের দিন অর্থাৎ ২০১৩ সালের ২২ জুলাই থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দিতে বলা হয়। এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ ৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। রায়ে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সম্বলিত গেজেট বাতিল করে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনকেও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

১৯৭১ সালে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা একটি গেরিলা বাহিনী গঠন করে মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্রও সমর্পণ করেছিলেন এই গেরিলারা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ২২ জুলাই গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম সম্বলিত তালিকার গেজেট প্রকাশ করে। এতে গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য কমরেড মণি সিংহ ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নাম ছিল।

কিন্তু ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই তালিকা-সম্বলিত গেজেটটি বাতিল করা হয়। এই বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর রিট আবেদন দায়ের করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। গত বছরের ১৯ জানুয়ারি গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বাতিলের প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়। চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আবেদনকারীগণের পক্ষে আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম নাজমুল হক শুনানি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত রায় ঘোষণা করে।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, গেরিলা বাহিনীর ২৩৬৭ জনের তালিকা সম্বলিত গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার এবং স্বাধীনতা উত্তর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারসহ প্রতিটি সরকার এই বিশেষ গেরিলা বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।