Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:১৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৩ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

গৃহবন্দিত্বেও কাটাতে পারেন খালেদা জিয়া: এএফপি

AFP-KHALEDA

No end in sight to ‘slow-burn’ Bangladesh turmoil-AFP

সব দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘাত চলতে থাকবে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। প্রতিবেদনে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি’র মতো গৃহবন্দিত্বেও কাটাতে পারেন বিরোধী দলীয় নেত্রী এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। সোমবার বাংলাদেশের কূটনৈতিক, রাজনীতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদলের চলমান আন্দোলনের ধারবাহিতকতা নিয়ে No end in sight to ‘slow-burn’ Bangladesh turmoil শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বার্তা সংস্থাটি। সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান ওট্টোনের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ বছরের শিশু রাকিব মিয়া তার পরিবারের জন্য দু’মুঠো অন্ন-সংস্থানের লক্ষ্যে বাসে উঠেছিল। বাসে দুর্বৃত্তের ছুঁড়ে মারা পেট্রলবোমায় জীবন্ত দগ্ধ হয় সে। ঢাকায় একটি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাদৃষ্টে আশঙ্কা, এ অস্থিরতা বাংলাদেশে নিত্যদিনের জীবনযাত্রার একটি অংশ হয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার শত্রুতা বহু যুগ পুরনো এবং তাদের দলীয় সহিংসতা নতুন কোন ঘটনা নয়। কিন্তু, পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন সাম্প্রতিক রক্তপাতের ঘটনা ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হতে পারে। এ বছর এ ঘটনাগুলোতে এখন পর্যন্ত ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার সূত্রপাত। প্রধানমন্ত্রীর অনড় অবস্থান ও দলীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়া আটক থাকায়, আশার খুব বেশি আলো দেখছেন না কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঢাকার একজন বিশ্লেষক আতাউর রহমান বলছিলেন, এ সহিংসতা চলতেই থাকবে এবং তা ধীরে ধীরে জ্বলবে। ২০১৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে যাবে। ধারণা থেকে আতাউর রহমান এমনটাও বলছেন, মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি’র মতো গৃহবন্দিত্বেও কাটাতে পারেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। এদিকে খালেদা জিয়া বলছেন, গত ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি গুলশান কার্যালয় থেকে বের হতে পারছেন না। ‘প্রহসনমূলক’ নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীতে বিক্ষোভ-আন্দোলনের আহ্বান জানানোর সময় থেকেই তিনি কার্যালয়ে আটক রয়েছেন। নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে খালেদা জিয়া সড়ক-অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন। তারপর থেকে শ’ শ’ যানবাহন পেট্রলবোমার আগুনে পুড়েছে। বিরোধী দলের কর্মীরা এ সমস্ত হামলা চালাচ্ছে বলে সরকারের অভিযোগ। অন্যদিকে, বিএনপি এর দায় চাপাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর। বিরোধী দলীয় বহু কর্মীকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত বছরের নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বহু দিক থেকে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাপ্রবাহ বেশি আতঙ্কজনক। কারণ এ ঘটনাগুলো ঘটছে বিশৃঙ্খখলভাবে এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে সহিংসতা অবসানের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই বলে মনে করছে অনেকেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের সার্জন সাজ্জাদ খন্দকার (৫৫) বলছিলেন, ককটেল বা বিশেষ হাতবোমা ও পেট্রলবোমায় দগ্ধ ৫৫ জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট বার্ন ইউনিটের করিডোরে চিকিৎসার অপেক্ষায় স্ট্রেচারে শুয়ে আছেন বহু মানুষ। গাজীপুরের একটি সবজির বাজার থেকে রাস্তায় পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট সবজি সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ হামলার শিকার হয় রাকিব। তার সারা শরীর আগুনে দগ্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন বার্ন ইউনিটে। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি বিএনপি’র সঙ্গে সংলাপে বসতে চান কিনা। প্রত্যুত্তরে তিনি ক্ষুব্ধভাবে বলেছিলেন, খুনিদের সঙ্গে, যারা আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারছে, তাদের সঙ্গে? এমন কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। গত সপ্তাহে এএফপি’কে দেয়া সাক্ষাতকারে খালেদা জিয়া হাসিনাকে সরে দাঁড়ানো ও একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সব দলের ঐকমত্যে ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই নির্বাচন হওয়া উচিত। পাল্টা-জবাবে তথ্যমন্ত্রী ইনু বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে ঐক্যের সরকারে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু, সেটা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। খালেদা জিয়ার বয়কটকে মারাত্মক ভুল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, জনমত জরিপগুলো বিএনপি’র জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ঢাকায় অবস্থানরত এক পশ্চিমা কূটনীতিক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছিলেন, খালেদা জিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলায়, চলমান সহিংসতাই ‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থা হয়ে হয়ে ওঠার মতো ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ, নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় এ সহিংসতাই হয়ে উঠতে পারে স্বাভাবিক। বিএনপির মধ্যে কেউ কেউ আশঙ্কা করেন যে সরকার বিএনপি’কে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। খালেদা জিয়া ও অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ এনে তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার ষড়যন্ত্র করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ১৯৭১ সাল থেকে প্রায় ২০টি অভ্যুত্থানের ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশ। তবে পুনরায় সেনা হস্তক্ষেপ হতে পারে এমন রিপোর্ট নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, দ্রুত সঙ্কট সমাধানের কোন ইঙ্গিত নেই। তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ সংঘাত চলতে থাকবে।

নিউজের লিঙ্কঃ https://au.news.yahoo.com/world/a/26304754/no-end-in-sight-to-slow-burn-bangladesh-turmoil/

FOLLOW US: