Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:০৫ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম
শাহেদুল ইসলাম

গৃহকর্মী নির্যাতন: নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক কারাগারে

নিউইয়র্কের কুইন্সবরো জেলার অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউন এমন অভিযোগকে খুবই উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের কথিত অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

তবে শাহেদুল ইসলাম নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কতিপয় ব্যক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আদালত থেকে জামিন পেলেও ২৫ হাজার ডলার পরিশোধ করতে না পারায় শাহেদুল ইসলাম সোমবার কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। জামিনের অর্থ পরিশোধ না করায় বাংলাদেশের একজন কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আটক থাকার ঘটনাটি নিয়ে কমিউনিটিতে নানা রকম কানাঘুষা শুরু হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শাহেদুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ প্রয়াত খাদেমুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, প্রায় ১৩ মাস আগে শাহেদুল ইসলামের বাসার গৃহকর্মী রুহুল আমিন বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিস থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ শাহেদুল ইসলামকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গৃহকর্মী রুহুল আমিনকে ন্যায্য বেতন দেননি এবং তার ওপর নির্যাতন করেছেন। শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গৃহকর্মী রুহুল আমিন।

রুহুল আমিনের মত গৃহকর্মী পালিয়ে যাবার ঘটনা নিউইয়র্কে নতুন নয়। রাজনৈতিক আশ্রয়লাভের কারণে এর আগেও বেশ কয়েকজন গৃহকর্মী বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হবার আশায় নির্যাতনের অভিযোগ করেন। সর্বশেষ কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ এসেছিল। পরে ‘কূটনৈতিক সুবিধা’ গ্রহণ করে মামলা থেকে অব্যাহতি পান।

একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে যোগদানের আগে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে প্রথমে তিনি ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসাবে যোগ দেন। পরে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল হন শাহেদুল ইসলাম। গৃহকর্মী রুহুল আমিনকে তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছিলেন।

জানা গেছে, বর্তমান কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসানের বর্তমান মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। শাহেদের গ্রেপ্তার ঘটনার পর এসব নিয়ে কমিউনিটিতে নানারকম কানাঘুষা চলছে।

জানাগেছে, নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে শাহেদুল ইসলাম সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার সময়ে কনস্যুলেটের সঙ্গে বাংলাদেশিদের একটি সুসম্পর্কও গড়ে উঠেছিল। এমনকি তিনি নিজেও অত্যন্ত সজ্জন হিসাবে পরিচিত। রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের উদ্দেশে এভাবে গৃহকর্মী পালিয়ে গিয়ে কূটনীতিকদের বিপদে ফেলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এসব বিষয়গুলো যথাযথ অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসানের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্কের বার্তা সংস্থা এনা জানিয়েছে, শাহেদুল ইসলামকে সোমবার বিকালে জ্যামাইকার একটি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে শাহেদুল ইসলামকে জামিন প্রদান করেন ২৫ হাজার ডলার নগদ এবং ৫০ হাজার ডলার বন্ডে। ২৫ হাজার নগদ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শাহেদুল ইসলামের জামিন হয়নি। মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনার চেষ্টা করা হবে।