ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৪৩ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

গুলি করে লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে খালে-বিলে-বেড়িবাঁধে

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

সাংবিধানিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করাই আওয়ামী লীগের ইতিহাস। এদের হাতে আজ গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার, বিচার ব্যবস্থা, সংসদ ও সর্বোপরি সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে।

বুধবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসায়ী অবৈধ আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধের সকল আকাঙ্খা ও অর্জনকে বিনষ্ট করে জাতির ভবিষ্যৎ অধিকারকেও হরণ করেছে। বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে (অনুচ্ছেদ-৭ বি) সংবিধানের প্রায় এক তৃতীয়াংশকেই অপরিবর্তনযোগ্য করে দেয়া হয়েছে। এই সেই আওয়ামী লীগ যারা চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করে তৎকালীন সংসদকে আরো এক মেয়াদের জন্য নির্বাচিত ঘোষণা করেছিল।

গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের মিছিলে প্রতিদিন সরকারি পেটোয়া পুলিশ বাহিনী বুলেটে ক্ষতবিক্ষত করছে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে। বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে খালে-বিলে-বেড়িবাঁধে। ক্রসফায়ারের ধরণ পাল্টে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করা হয়েছে যশোর মনিরামপুরের ইউসুফ ও লিটনকে। দু’পায়ে গুলি করে চিরতরে পঙ্গু করা হয়েছে ঢাকা কলেজের শিবির নেতা আবদুল হামিদ, মোহাম্মদপুরের জামায়াত নেতা নাজমুল হাসান ও আবুল কাশেমকে। দেশব্যাপী অসংখ্য বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে প্রতিদিন গুম, খুন ও অপহরণ করা হচ্ছে।

প্রচার মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে, কুক্ষিগত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে শেখ হাসিনা তার অবৈধ শাসন চালিয়ে যাওয়ার যে সংকল্প করেছে তাতে এই রাষ্ট্র গঠনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ও আপামর জনসাধারণের সকল স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে চলেছে।

পুলিশি শাসন ও নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থার কল্যাণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে দিনের পর দিন মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে এনে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে এসব বেআইনি রিমান্ড বন্ধ করে তাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আজ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আহমেদ ও আশরাফ উদ্দিন নিজামকে পুলিশ বিনা কারণে গ্রেফতার করেছে। বিবৃতিতে তাদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী চলমান অবরোধ ও হরতালে গ্রেফতারকৃত সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সব মানবাধিকার সংস্থা, সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদেরকে গুলশান কার্যালয়ের পরিস্থিতি পরিদর্শন পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন করে বিশ্বের কাছে তা তুলে ধরা এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাকে তাদের যথাযথ ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবিলম্বে টেলিফোন, ফ্যাক্স, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ক্যাবল সংযোগসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্যও আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।