শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫০ ঢাকা, শনিবার  ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

গুলশান অফিসেই থাকবেন খালেদা

জলকামান ও পুলিশ ভ্যানের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়া হলেও আপাতত গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়েই থাকছেন বিরোধী জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলাকালীন কার্যালয় থেকে বের হবেন না বলে জানিয়েছেন দলটির এক শীর্ষ নেতা। রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন খালেদা জিয়া। গতরাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই দীর্ঘ ১৬ দিন পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনের রাস্তার কয়েক গজ উত্তরদিকে আড়াআড়িভাবে রাখা দুটি পুলিশভ্যান ও দক্ষিণ দিকে রাখা একটি জলকামানের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় পুলিশ। প্রত্যাহার করা হয় কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের। ৮৬ নম্বর সড়কের দুইপ্রান্তে পুলিশের তল্লাশি চৌকিও সরানো হয়। তবে মোতায়েন রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ। কার্যালয়টির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সিএসএফের সদস্যরা। এদিকে কার্যালয়টিতে এখনও অবস্থান করছেন খালেদা জিয়াসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা। কার্যালয়টিতে অবস্থানরত দলের  শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের ব্যারিকেড সরালেও বিরোধী জোটকে দমন করতে অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে সরকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচি চলাকালীন  ম্যাডাম কার্যালয়েই অবস্থান করবেন। রাতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।  ৩রা জানুয়ারি থেকে কার্যালয়ে রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আল-আমিন ডিউ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও আরেক মহিলা নেত্রী হেনা আলাউদ্দিন, চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী লে. কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান।
উল্লেখ্য, গত ৩রা জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় কার্যালয়ে আসেন খালেদা জিয়া। এর পরপরই কার্যালয়ের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অর্ধশতাধিক নারী পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয় কার্যালয়ের সামনে। কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান ও উত্তর পাশে আরেকটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অসুস্থ দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দেখতে যেতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের পথরোধ করে পুলিশ। প্রায় আধাঘণ্টা গাড়িতে বসে থেকে ফের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তিনি। পূর্ব ঘোষিত ৫ই জানুয়ারির সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই একে একে কার্যালয়ের সামনের রাস্তার দুইপাশে এনে রাখা হয় ১১টি ইট ও বালুভর্তি ট্রাক। এরপর থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ৫ই জানুয়ারি দুপুরে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। বিকাল পৌনে ৪টায় কার্যালয়ের দোতলা থেকে নিচে নামেন তিনি। এ সময় বের হওয়ার চেষ্টা করলে খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে পিপার স্প্রে ছোড়ে পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা গাড়ি থেকে বের হয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিকে ওই দিন সন্ধ্যার পর পিপার স্প্রের গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রাতেই একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধি দল কার্যালয়ে প্রবেশ তাকে চিকিৎসা দেন। ৬ই জানুয়ারি কার্যালয়ের দুই পাশে বালু ও ইটের ট্রাক সরিয়ে নেয়া হয়।