ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:১৩ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৯শে জুলাই ২০১৮ ইং

দাঙ্গা পুলিশের টহল

গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা দমনে বিএসএফ তলব

শীর্ষ মিডিয়া ২৯ সেপ্তেম্বেরঃ  ভারতের গুজরাটের ভাদোদরায় নবরাত্রির অনুষ্ঠানে মুসলমানদের প্রবেশে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা অব্যাহত রয়েছে।

দাঙ্গার জড়িত সন্দেহে গত কদিনে প্রায় দেড়শ জনকে আটক করা হয়েছে,   এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া না গেলেও, দোকান, যানবাহন এবং বাড়িতে ভাঙচুরের অনেক ঘটনা ঘটেছে।  দাঙ্গা সামলাতে পুলিশ অনেক জায়গায় পুলিশ গুলি ছুড়েছে।

শহর জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি আধা-সামরিক বাহিনী বিএসএফ শহরে টহল দিচ্ছে।  চার মাস আগের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ভাদোদরা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভাদোদরায় হিন্দুদের নবরাত্রি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়।

পশ্চিম ভারতে নবরাত্রির সময় গারভা নাচ বহু পুরনো ঐতিহ্য। এই নাচ হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও, অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ও তাতে অংশ নেয়।

লাভ জিহাদের প্রচারণা

কিন্তু এবার নবরাত্রির আগ থেকেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ কট্টর কিছু হিন্দু সংগঠন দাবি তোলে গারভা নাচের অনুষ্ঠানে মুসলমানদের নিষিদ্ধ করার পক্ষে প্রচারণা শুরু করে। তাদের যুক্তি মুসলিম যুবকদের এই সুযোগে হিন্দু মেয়েদের সাথে সম্পর্ক করার চেষ্টা করে।

ভিএইচপি নেতা কনক সিং খোলাখুলি বলেন, “আমাদের হিন্দু মেয়েদের প্রলুব্ধ করে ধর্মান্তরিত করার ষড়যন্ত্র এঁটেছে মুসলিমরা – তাই তাদের ঠেকাতেই গারভাতে পরিচয়পত্র যাচাই করা আর সিসিটিভি বসানোর দাবি জানিয়েছি আমরা।”

পাশের রাজ্য মধ্যপ্রদেশে বিজেপির একজন প্রভাবশালি নেত্রী উষা ঠাকুর কট্টর হিন্দুদের এই দাবিকে সমর্থন করলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে পড়ে।   রাজ্য বিজেপি-র এই সহ-সভাপতি নির্দেশ দেন, পরিচয়পত্র দেখে শুধু হিন্দু যুবকদেরই যেন গারভায় ঢুকতে দেওয়া হয়।

মুসলিমদের প্রতিক্রিয়া

গুজরাটে বহু মুসলিম গারভা নাচের প্রশিক্ষণও দেন, অনুষ্ঠানে যারা সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করেন তাদেরও অনেকেই মুসলিম।

এমন একজন ভাদোদরার নাজির সাউন্ডসের মজিদ মোহাম্মদ যেমন ভাবতেই পারেন না বাবার আমল থেকে পঁয়ত্রিশ বছর ধরে তারা যে গারভায় যাচ্ছেন সেখানে তাদের বাধা দেওয়া হবে।

শহরের মুসলিম তরুণী সাকিনা মোটরওলার এতদিন ধারণা ছিল গারভা হিন্দু-মুসলিম সবারই অনুষ্ঠান। তার কথায়, তরুণ-তরুণীরা সবাই গারভা বলতে পাগল, এখানে ধর্মের কথাটাই অবান্তর। সূত্র ঃ বিবিসি