ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:১৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

গুজরাটে সহিংস বিক্ষোভে নিহত ৯, সেনা মোতায়েন

ভারতের গুজরাটের সুরাটে সহিংস বিক্ষোভকালে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এক পুলিশ কনস্টবেলসহ নয়জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে একশ জন। এর মধ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ছয় জন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটের প্যাটেল সম্প্রদায় সরকারি চাকরি আর শিক্ষা ক্ষেত্রে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র মর্যাদা দিয়ে সংরক্ষণের আওতায় আনার দাবি নিয়ে মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরু করে। বুধবার তা সহিংস রূপ নেয়।
সহিংসতা ব্যাপক আকার ধারণ করায় সরকার রাজ্যের বড়ো বড়ো শহরে কারফিউ জারি এবং সেনা মোতায়েন করেছে। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা পুলিশ স্টেশন, সরকারি ভবনে হামলা চালানোর পর তাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রাজ্যের এ সহিংস পরিস্থিতির কারণে স্কুল ও কলেজসমূহ বন্ধ রয়েছে। এমনকি গণপরিবহনও বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরকার রাজ্যে আধাসামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সকল কিছুরই সমাধান করা হবে।
আহমেদাবাদ, সুরাট ও মেহসানার অনেক এলাকাতে কারফিউ জারি রয়েছে। বুধবার রাতে সবরকন্ঠ জেলার কিছু গ্রামে নতুন করে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পুলিশ বুধবার বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা সবরমতি স্টেশনের কাছে রেললাইন উপড়ে ফেললে রাজস্থানগামী পাঁচটি ট্রেনের যাত্রা বন্ধ করে দেয়া হয়। ট্রেন স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেল শান্ত হতে এবং শান্তি বজায় রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্দোলেনের নেতৃত্বে থাকা ২২ বছর বয়সী তরুণ হার্দিক প্যাটেলও শান্তি বজায় রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে হার্দিক নিরীহ জনগণের ওপর পুলিশের বর্বর আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে প্রমুখ স্বামী মহারাজ, স্বামী মাধবপ্রিয় দাসজী, স্বামী পুরুষোত্তম প্রিয় দাসজী এবং মুরারি বাপুসহ শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গুজরাটের প্যাটেল সম্প্রদায় সরকারি চাকরি আর শিক্ষা ক্ষেত্রে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র মর্যাদা দিয়ে সংরক্ষণের আওতায় আনার দাবি নিয়ে মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরু করে। বুধবার আহমেদাবাদের জিএমডিসি ময়দানে জড়ো হয়েছিলো প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা হার্দিক প্যাটেল ২০১১ সালে সর্দার প্যাটেল গোষ্ঠী তৈরি করেন এবং সংরক্ষণ নিয়ে আন্দোলনে নামেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। তাদের দাবি, সংরক্ষণ নেই বলে ভাল নম্বর থাকা সত্ত্বেও বড়ো কলেজে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পান না তারা।
বুধবার হার্দিক জনসভাতেই অনশন শুরু করেন। তারপরই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তাতে ফল হয় বিপরীত। পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ তুলে রাত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ তীব্র সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতির চাপে শেষে রাতেই পুলিশ হার্দিককে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। বিক্ষুব্ধ লোকজন সরকারি সম্পত্তি তছনছ করে, সুরাটে শতাধিক সরকারি বাসে আগুন দেয়। একই সঙ্গে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজ্যে বুধবার বন্ধেরও ডাক দেওয়া হয়।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি শহরে কার্ফু জারি ছাড়াও নিরাপত্তার খাতিরে রাজ্যের বেশির ভাগ অংশে কেব্ল টিভি, ইন্টারনেট যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়।