খালেদা জিয়া ও মোহাম্মদ নাসিম
খালেদা জিয়া ও মোহাম্মদ নাসিম

গাড়ী বহরে হামলা বিএনপির সাজানো নাটক

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে হামলা বিএনপির সাজানো নাটক।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা তাদেরই সাজানো নাটক। ওই নাটকের তদন্ত চলছে, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।’

মোহাম্মদ নাসিম আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তি এবং বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কিংবা সমবেদনা জানাতে যাননি। রোহিঙ্গাদের অবলম্বন করে নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়েছেন। শো-ডাউন করে লোক দেখাতে গিয়েছেন। আাগামী নির্বাচনই বলে দেবে কার কত লোক আছে। তিনি মূলত পথে নাটক করেছেন, হামলার নাটক সাজিয়েছেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তিনি যদি রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতা করতে যেতেন তাহলে বিমানেই যেতে পারতেন। প্রায় তিন মাস পর সেজে গুজে কোটি টাকা খরচ করে, সারি সারি গাড়ি নিয়ে যেতেন না। পেট্রোল খরচ আর সাজ গোজে যে টাকা খরচ করা হয়েছে সেই টাকা দিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করতে পারতেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়েও ওখানে তিনি মিথ্যাচার করে বলেছেন, সরকার ও আওয়ামী লীগ রোহিঙ্গাদের জন্য কিছুই করেননি। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এতবড় মিথ্যাচার কী করে করতে পারলেন? এ মিথ্যাচারের জবাব দেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে দেবে।

বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) এর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দিলে সামনে বিপদ আছে উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, শুধু উন্নয়ন নয়, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ, জামায়াত-শিবিরকে উৎখাত করতে না পারলে, তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে জয়ী হতে না পারলে সামনে আরও কঠিন সময় আসবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসি দিতে পেরেছি এমন ভেবে যদি ভাবি যুদ্ধে জয়ী হয়ে গেছি তা ভুল হবে। যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত-শিবির, তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়কারী বিএনপি সন্ত্রাসীদের নির্মুল করতে হবে।

সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হচ্ছে সমাজতন্ত্র। আমরা সমাজতন্ত্রের পক্ষে। সমাজতন্ত্রের বিপক্ষে শোষণকারীরা। সমাজতন্ত্র ছাড়া জীবন চলে না। সংবিধানে ৪ নীতির মধ্যে সমাজতন্ত্র একটি। ৭৫ এর পর সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র নীতিটি কেটে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, যে করেই হোক দেশ থেকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী, জামায়াত ও তাদের পোষণকারীদের চিরতরে উচ্ছেদ করতে হবে।