ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫৯ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মুজিবুল হক চুন্নু

গার্মেন্টসে শ্রমমান বেড়েছে : প্রতিমন্ত্রী চুন্নু

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের পর গার্মেন্টসে শ্রম মানের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। শ্রম আইনের সংশোধন এবং নতুন করে ফের সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নের দৃষ্টিকোন থেকে শ্রমমান বাস্তবায়নের ক্রমবর্ধমান তাগিদ’ শীর্ষক ওই সংলাপে মূল্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে অর্থনীতিবিদ, খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, কারখানা মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ট্রেড ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়া সহজ করাসহ শ্রমমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

সংলাপে আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশ এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) আমলে রয়েছে। অন্যদিকে সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশের প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে আমাদের শ্রম অধিকার রক্ষার বিষয়টিও এই মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জজ্যপূর্ণভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নীতিমালা অনুযায়ী শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও শ্রম অধিকার রক্ষায় নজর দিতে হবে। সেই সঙ্গে কেবল গার্মেন্টস নয়, সব ধরণের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রম অধিকার রক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় এসডিজি অর্জন কিংবা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ অর্থহীন হয়ে যাবে। ফলে এর সুফল ভোগ করা যাবে না।

আলোচনায় শ্রমিক নেতারা বলেন,শ্রমিকের জন্য অনেক কথা হয়,কিন্তু বাস্তবতা কী-তা পর্যালোচনা করা দরকার। যেসব সুবিধার কথা আলোচনা হয, তার কতটুকু শ্রমিকের কাছে যাচ্ছে-তাও দেখা দরকার। কত শ্রমিক রোগে ভুগে মারা যাচ্ছে, তার সঠিক পরিসংখ্যানও দরকার।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন,এমন জায়গায় যেন না যাই, কিছু প্রতিষ্ঠান শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে পারছে,আবার কেউ করতে পারছে না। এখন বহুপাক্ষিক শ্রমমানের ইস্যুটি আলোচনায় আসছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি হলেও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মসংস্থার বাড়েনি। আবার যে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে,তাও শোভন নয়। শ্রম মানের উন্নয়নে কাজ করা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বয়েরও তাগিদ দেন তিনি।

ড. গোলাম মোয়াজ্জেম মূল প্রবন্ধে শ্রম মানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি কী ধরণের অগ্রগতি করতে হবে,তার ওপর আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশের বর্তমান শ্রমমান পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ আইএলও’র ৮টি মূল নীতিমালার ৭টি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া সুশাসন সংক্রান্ত ৪টির মধ্যে ২টি ও কারিগরি নীতিমালার ১৭৭টির মধ্যে ২৬টি অনুস্বাক্ষর করেছে। যেগুলো স্বাক্ষর করেছে, তার বাস্তবায়ন চলমান রযেছে। তবে নীতিমালার আরো বেশকিছু ইস্যুতে বাংলাদেশকে অগ্রগতি করতে হবে।