Press "Enter" to skip to content

গবেষণায় সিপিডি কি বিশ্বব্যাংকের চেয়েও বড়?

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ও সিপিডি প্রতিবছর বাজেট নিয়ে একই ধরনের সমালোচনা করে। বাজেট নিয়ে তাদের গবেষণা সমালোচনা করার জন্য।

হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিশ্বব্যাংক যেখানে বলছে, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বিএনপি ও সিপিডি কোনও কল্যাণই দেখে না। সিপিডি কি বিশ্বব্যাংকের চেয়েও বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান হয়ে গেলো?’

বাজেট নিয়ে বিএনপি ও সিপিডির বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি ও সিপিডি প্রতিবছর বাজেট নিয়ে একই ধরনের সমালোচনা করে। তারা মূলত তিনটি সমালোচনা করে থাকে। তা হলো বাজেট উচ্চাভিলাষী, এ বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয় এবং এ বাজেট গরিব মানুষের কোনও কল্যাণে আসবে না।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

‘২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট কেমন হয়েছে’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজেট অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জিডিপির আকার বেড়েছে চার গুণ। বাজেটের আকার বেড়েছে আট গুণ। সেখানে করদাতার সংখ্যা সেভাবে বাড়েনি। কাজেই এ বাজেটে করদাতার সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা যুগান্তকারী। এ বাজেট শিল্পবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব।

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের হার শতকরা ৯৩ থেকে ৯৫ শতাংশ। কোনো কোনো বছর বেশি হয়েছে। উন্নয়ন বাজেট ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। তারপরও তারা বলছে বাস্তবায়ন হয়নি। বাজেট বাস্তবায়ন ও কল্যাণ না হলে এই অর্জনগুলো এলো কীভাবে? আমরা ক্ষমতায় আসার সময় ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। এখন বাংলাদেশে খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে।

তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২০ লাখ টন চাল রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। স্বপ্নহীন মানুষ যেমন বেশি দূর আগায় না, স্বপ্নবিহীন রাষ্ট্রও তেমন বেশি দূর যেতে পারে না। শেখ হাসিনা উচ্চ আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। একদিন এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশ থেকে নেমে ২০ শতাংশ হয়েছে। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬০০ ডলার থেকে বেড়ে দুই হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির এ সূচকগুলো কি কল্যাণের চিত্র বহন করে না?

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ফোর টুয়েন্টি রাজনীতিবিদ যেন না ভাবে, কারণ কারও সমালোচনা করতে হলেও তার মধ্যে ভদ্রতা, সভ্যতা ও শিষ্টাচার থাকা প্রয়োজন। আমি ভেবে পাই না উনিতো ছাত্র রাজনীতিও করেছেন। উনি কীভাবে এমন ভাষায় সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনকে অনুরোধ করবো, নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখুন। অনেকে ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা নিজেরা হিমশিম খাচ্ছে নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে। সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে আন্দোলন করবে সেটি বোধগম্য নয়।’

বিএনপি নেতা-কর্মীদের বক্তব্য দেওয়ার সময় ভদ্রতা-সভ্যতা বজায় রাখার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, অবশ্যই সব কিছুর সমালোচনা থাকতে হবে। সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার সমালোচনাকে সমাদৃত করার সংস্কৃতি লালন করেন। আমরা যুক্তি-তর্কভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় বসবাস করি। তাই সরকারের সমালোচনা করার সময়ে ভদ্রতা-সভ্যতা বজায় রাখা উচিত।

এ সময়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার অপশন: