Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:১৩ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

গত অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ২৮১৪৪.৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ২৮ হাজার ১৪৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তিনি মঙ্গলবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামালের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৬৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে সুসংহত ও টেকসই রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল, বহির্মুখীকরণ ও রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতি তিন বছর অন্তর রপ্তানি নীতি তৈরি করা হয়। ত্রিবার্ষিক রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক পণ্যকে ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য মূলতঃ ছয়টি পণ্য। তৈরি পোশাক (নিটওয়ার ও ওভেন গার্মেন্টস), চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য (পাদুকাসহ), পাট ও পাটজাতপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হোমটেক্সটাইল এবং কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের উপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ফার্নিচার শিল্প, জাহাজ শিল্প, আগর উড্ ও আতর, হীরা (কাটা ও পলিশ করা), পাঁপড় ইত্যাদি নতুন পণ্যকে রপ্তানি পণ্যের ঝুঁড়িতে অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকং, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া, সিআইএসভুক্ত বিভিন্ন দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিলসহ নতুন নতুন বাজারে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া কোন কোন দেশে বাংলাদেশীয় পণ্যের একক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে নতুন নতুন বাজার অন্বেষণের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সমন্বয়ে বাণিজ্যক মিশন পাঠানো হচ্ছে। পণ্য পরিচিতি ও বহুমুখীকরণের জন্য প্রতি বছর জানুয়ারিতে এক মাসব্যাপী ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ এ মেলায় অংশগ্রহণ করায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রপ্তানি আদেশ পাওয়া যায়। একই সাথে পণ্য পরিচিত বৃদ্ধি পায়।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাণিজ্যিক মিশন খোলা হয়েছে। এছাড়া তুরস্ক, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় কমার্শিয়াল উইং খোলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ইউরোপিয়ানভুক্ত সকল দেশ, ভারত, জাপান, চীন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ইত্যাদি দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলার বাউশিয়া উপজেলায় চীনের সহযোগিতায় ‘গার্মেন্টস শিল্প পার্ক’ গড়ে তোলার কাজ চলছে। প্রয়োজনে দেশের অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের পল্লী স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে সম্প্রসারণের জন্য সার্ভিস সেক্টরকে রপ্তানির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।