শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:৫৬ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

আবদুল হামিদ
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিতে সকলের প্রয়াস জরুরি : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

আজ বিকেলে ভোলা ফাতেমা খাতুন ডিগ্রি কলেজ ময়দানে এক জনসভায় ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র জনগণের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, চিন্তা, বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, গণতন্ত্রকে অব্যাহত ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে দল ও মতের পার্থক্য থাকতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ আমাদের সকলের। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদেরকেও আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস এবং এতে কার কি অবদান ছিল তা সঠিকভাবে জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভোলা সদরে স্বাধীনতা জাদুঘরের উদ্বোধন সম্পর্কে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ভোলা জেলার অধিবাসীরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলের বীর সেনানীদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যারা বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা এনেছেন, তাদের প্রতি আমাদের যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে এবং তারা যেসব লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে লড়াই করেছেন তা অর্জনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর পরই দেশের সত্যিকার ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টার জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘মিথ্যার ওপর সবসময়ই সত্যের জয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশেও তাই হয়েছে।’

বর্তমান সরকারের আমলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমেছে দারিদ্র্যের হার। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স প্রবাহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ছাড়া ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, নারীর ক্ষমতায়ন, বিদ্যুৎ, তথ্য-প্রযুক্তিসহ আর্থ-সামাজিক নানা খাতে বিপুল অর্জন কেবল দেশে নয়, বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।’

‘বাংলাদেশ বিশ্বে আজ উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর কল্পনা নয়, তা বাস্তব।’

‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন-মধ্য আযের দেশে উন্নীত হয়েছে’ উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য-আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পারভীন আখতারও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, মো. আফজাল হোসেন এমপি, রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক এমপি, আলী আজম মুকুল এমপি, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পারভীন আখতার ও ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি জেলার বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধন করেন।

রাষ্ট্রপতির পত্নী রাশিদা খানম এ সময় রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় তারা বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করেন।

রাষ্ট্রপতি সেখানে চর কুকরি-মুকরি পর্যটন কেন্দ্র ও একটি ইকো পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি চর কুকরি-মুকরির দরিদ্র জনসাধারণের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি চর কুকরি-মুকরি রেস্ট হাউজে একটি ক্রিসমাস ট্রির চারা রোপণ করেন। ভোলা ও চরফ্যাশন উপজেলায় দু’দিনের সফরকালে রাষ্ট্রপতি এখানে এক রাতযাপন করেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি ঢাকায় ফিরে আসেন।