শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:১৪ ঢাকা, সোমবার  ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে রক্ষা করতেই আইন করা হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, যেসব বিষয় গণমাধ্যমকে অপবিত্র করে, ধ্বংস করে এর উৎপাত থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে রক্ষা করতে সরকার প্রয়োজনীয় আইন-কানুন করছে।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য বেগম ওয়াসিকা আয়শা খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে জাতীয় সম্প্রচার আইন প্রণয়ন করা হবে। জাতীয় সম্প্রচার আইন প্রণয়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করেছে। এ আইনের মাধ্যমে টেলিভিশন, এফএম রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিওতে সকল সম্প্রচারের মধ্যে যদি কোন মিথ্যাচার, বিকৃত, অশ্লীল বা অনভিপ্রেত কোন বিষয় থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রচার আইনের ভিত্তিতে সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশন সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, নাগরিকদের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং সমাজের চাহিদা পূরণে কাজ করবে।
তিনি বলেন, অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় যে কোন সাংবাদিক বা যে কোন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার কাছে তথ্য চাইতে পারবেন এবং সেই তথ্য দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাধ্য থাকবেন। শুধু সরকারি কর্মকর্তাই নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশী অর্থে বা সরকারি অর্থে পরিচালিত হয় এসব প্রতিষ্ঠানও তথ্য অধিকার আইনের আওতাভুক্ত। যদি তারা তথ্য না দেন, তাহলে তথ্য কমিশন অফিসে অভিযোগ দাখিল করলে তথ্য কমিশন বিচারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দণ্ডমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সকল স্তরে এবং সকল ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে প্রশাসন ও সমাজের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক অবস্থানে নিয়ে গেছে। এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে একটি কাঁচের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, যে ঘরের মধ্যে প্রশাসনের সবকিছু দেখা যায়। জনগণ যাতে অবাধ তথ্যের সাথে পরিচিত হতে পারে এ জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের সরকার ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এর ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা দেশের সকল তথ্যের কাছে যেতে পারবেন এবং বিশ্বের তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন। বিশ্বায়ন ও অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। প্রশাসনের সকল স্তরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রয়োগ করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।
হাসানুল হক ইনু বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগে সাইবার জগতে অপরাধীদের বিচরণ রোধ করতে এবং তাদের উৎপাত থেকে সাইবার জগতকে রক্ষা করতে সরকার সমন্বিত সাইবার অপরাধ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, অনলাইন একটি বিকাশমান মাধ্যম। অনলাইনে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। এখানে কোন নীতিমালা ছিল না। ইতোমধ্যে এ অনলাইন নীতিমালা করার জন্য সরকার এবং সরকারের বাইরের লোকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রয়েছে জনগণের মতামতের জন্য। সরকার আশা করছে অনলাইন সম্পর্কিত বিষয়েও একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রেস কাউন্সিলকেও হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।