ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:১৫ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

শাহবাগে নার্সদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিপেটা: ছবি প্রথম আলোর

গণজাগরণের বেলায় নিরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মোড় অজুহাতে অবরোধকারী নার্সদের লাঠিপেটা

সরকারি কর্মকমিশন প্রকাশিত সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে আগের মতো ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদটিতে নিয়োগের জন্য আবারো বিজ্ঞপ্তি পকাশের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বাংলাদেশ বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সেস সোসাইটি এবং বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার সকাল থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। তারা সকাল থেকে শাহবাগে জড়ো হয়ে শাহবাগ চত্বর অবরোধ করে রাখে। দুপুরের দিকে পুলিশ ১৫ মিনিটের আল্টিমেটাম দেয় অবরোধ সরানোর। কিন্তু ১৫ নার্সদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেয়ে শাহবাগ অবস্থান ছেড়ে কেউ যাবে না। আল্টিমেটামের পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ। এসময় পুলিশ আটজনকে আটক করেছে।

nirzaton17

আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোড়া হয় সাউন্ড গ্রেনেড। পরে সংঘর্ষ হয় । এ সময় শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে চারপাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরে বেলা দেড়টার দিকে লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগে পিএসসি যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তা বাতিল করে আগের মতো জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এই পদে নিয়োগের দাবিতে শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে একদল নার্স। বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিবিএনএ) ও বাংলাদেশ বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির (বিজিএনএস) ব্যানারে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ওরা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ করে রেখেছিল। এখানে দুটি হাসপাতালও আছে। হাসপাতালে রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণে আমরা তাদের বারবার রাস্তা ছেড়ে যেতে বলেছি। কিন্তু তারা সরেনি। ঘটনাস্থল থেকে সাত থেকে আটজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা হবে। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে তারা হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে দেয়। অবরোধকারীদের সরানোর পর বেলা পৌনে ২টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়।

nirzaton18

বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির (বিজিএনএস) সাধারণ সম্পাদক নাহিদা আক্তার বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৩ সালে সর্বশেষ নিয়োগ পর্যন্ত ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ হয়ে আসছে। এজন্য ব্যাচভিত্তিক নিয়োগের ফলে সিনিয়ররা পদোন্নতি পেতেন, জুনিয়ররা আবেদনও করতেন না। আমি ২০০৬ সাল থেকে এই পর্যন্ত আবেদন না করে অপেক্ষা করলাম। এখন বলা হচ্ছে, আমার পরীক্ষা নেওয়া হবে। পিএসসির নতুন পদ্ধতিতে আমি বয়সের কারণে শুধু একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারব। তাহলে আমি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এতোদিন অপেক্ষা করলাম কেন? আমাদের সঙ্গে ২০০৬ সালে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্তরা তো অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তখন আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়নি কেন? নাহিদা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে সরকারি পর্যায়ে ১০ হাজার নার্স পদ সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ৩ হাজার ৭২৮টি শূন্য আছে। নতুন পদ সৃষ্টি করে এবং শূন্য পদ মিলিয়ে মোট ১৩ হাজার ৭২৮ পদে দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে।

গত সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিনিয়র স্টাফ নার্সের ৩ হাজার ৬১৬ পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। সংগঠন দুটি দাবি করছে, গত ২৮ মার্চ সরকারের কর্মকমিশন সচিবালয় থেকে ৩ হাজার ৬১৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ কারণে হাজার হাজার বেকার নার্স চাকরির আবেদন করতে পারবে না। তাই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করে জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে পদটি নিয়োগ দেয়ার জন্য দাবি করছেন তারা।এদিকে নার্সদের শাহবাগ মোড়ে অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকা দিয়ে যানচলা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকালের নার্সদের আন্দোলনও ছিল শান্তিপূর্ণ। পুলিশ অবরোধকারীদের সরানোর চেষ্টায় লাঠিচার্জ করলে অশান্ত হয়ে উঠে এলাকা, শুরু হয় সংঘর্ষ। পুলিশ বলছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ করে রেখেছিল। ওখানে দুটি হাসপাতালও আছে। হাসপাতালে রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণে আমরা তাদের বারবার রাস্তা ছেড়ে যেতে বলেছি। কিন্তু তারা সরেনি। তাই তারা সরিয়ে দিতে ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশের জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে ব্যবস্থা নেয়াটাকে অন্যায় বলা যাবেনা বরং যথার্থই বলা উচিত। কারণ বাস্তবতা বলছে পুলিশের বক্তব্য সঠিক, আসলেই শাহবাগ গুরুত্বপূর্ণ যায়গা ওখানে দুটি হাসপাতাল আছে এবং ঢাকা মেডিকেলে যাবার পথ এটি। ৪ রাস্তার মুখ বন্ধ হলে যানজটসহ হাসপাতালে রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকেনা।

শাহবাগ যে একটা আন্দোলনের যায়গা তা কিন্তু জানান দিয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চ। একই যায়গায় গণজাগরণ মঞ্চ মাসের পর মাস আন্দোলন করেছিল। যদিও তাদের আন্দলনের ব্যপ্তি ছিল গোটা শাহাবাগ এলাকা জুড়ে এবং শান্তিপূর্ণ। কিন্তু কই শাহবাগ গুরুত্বপূর্ণ যায়গা বলে তাদেরকেতো পুলিশ সরিয়ে দেয়নি বরং নিরাপত্তা দিয়েছে। নার্সদের গতকালের আন্দোলনও ছিল শান্তিপূর্ণ। প্রশ্ন থেকে যায় হটাত কেন নিরীহ নার্সদের সাড়ে ৩ ঘণ্টার আন্দোলনের বেলায় শাহবাগ পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো এবং লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করতে হল? এটা কি তাহলে পুলিশের দ্বৈতনীতি নয়? সড়কে আন্দোলনের প্রাকটিসটা আগে থেকেই বন্ধ করার উদ্যোগ থাকা উচিত ছিল পুলিশের।