Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৫৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

গণজাগরণের বিভক্তি এখন শাহবাগে

ঢাকা: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ এখন নিজেদের মধ্যে ‘যুদ্ধ’ করছে। তিন ভাগে বিভক্ত গণজাগরণ মঞ্চ শুক্রবার শাহবাগে সমাবেশ করল আলাদা ভাবে। সেখানে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবির সঙ্গে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগারও শোনা গেছে।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে এমনকি দু গ্রুপে সংঘর্ষও হয়েছে। এতে একাংশের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ পাঁচজন আহত হয়েছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শাহবাগে জাতীয় যাদুঘর ও পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে শুক্রবার বিকেলে গণজাগরণ মঞ্চের তিন গ্রুপ সমাবেশ শুরু করে।পৃথক সমাবেশ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির পাশাপাশি সরকারের সমালোচনা করেন বক্তারা।

তিনটি অংশের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরান এইচ সরকার। দ্বিতীয় অংশটির নেতৃত্বে আছেন বাপ্পাদিত্য বসু। অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন কামাল পাশা চৌধুরী।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হলে তিন গ্রুপের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইমরান এইচ সরকার সমর্থক গ্রুপ শাহবাগ মোড়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ পর্যায়ে কামাল পাশা গ্রুপ আরেকটি মিছিল বের করলে ইমরানের গ্রুপের কর্মীরা চেয়ার ছুড়ে মারে।

এতে দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে ইমরান এইচ সরকারসহ পাঁচজন আহত হয়। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এরপর পুলিশ দুই গ্রুপকে লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশি বাধার কারণে কোন পক্ষই আর শাহবাগে দাঁড়াতে পারেনি। রাতে এ ঘটনার প্রতিবাদে ‘শাহবাগ আন্দোলন’ নামে আরেকটি গ্রুপ সমাবেশ করেছে।

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরু হয়েছিল।মাত্র দেড় বছরের মাথায় মঞ্চের নেতাকর্মীরা ত্রিধা বিভক্ত হয়ে পড়ায় শুক্রবার তিন গ্রুপের সমাবেশে কর্মী- সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল কম।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেবির পাশে সমাবেশ করেন ইমরান এইচ সরকার। এতে সিপিবি-বাসদ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীছাড়া উদীচী অংশ নেয়।

১৪ দলের শরীক জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ছাত্র সংগঠন জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা জাতীয় যাদুঘরের গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে। এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু ও জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি শামছুল ইসলাম।

আর জাতীয় জাদুঘরের উত্তর পাশের গেটে ছাত্রলীগ সমর্থিত গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কামাল পাশা গ্রুপ পৃথক সমাবেশ করেছে।কামাল পাশা বলেন, এতদিন যারা পুলিশের পাহারায় বিরিয়ানি খেয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছে তারা এখন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।এদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহবান জানান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের প্রতিবাদ সমাবেশে কামাল পাশার কঠোর সমালোচনা করে তাকে সরকারের দালাল হিসেবে অভিহিত করেন এমরান এইচ সরকার।